মাসুদূর রহমান: বঙ্গে এখন ভরা গ্রীষ্ম।ঋতু চক্রের প্রথম ঋতু। সেই ঋতুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি কালবৈশাখী সহ ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রলয় নাচনে বঙ্গ জীবন ছত্রভঙ্গ। বিপুল পরিমাণ বোরো ধান তিল বাদাম পাট সহ শাকসবজির ক্ষতি। শুধু তাই নয় আমফানে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা সহ সমতল ভূমির কাঁচা ও পাকা বাড়ি এবং গাছপালা সবই প্রায় ভূমি শয্যায় শায়িত হয়েছে।
অতিবাহিত হয়েছে বেশ কয়েকটি দিন। এরই মাঝে, 'গগনে গরজে মেঘ ঘন বর্ষা'- কে সম্বল করে রোজই প্রায় সন্ধ্যা নামার আগে একবার করে চোখরাঙানি দিতে ভোলে না স্বয়ং ইন্দ্রদেব। কিন্তু সকালবেলা,এ কিসের ইঙ্গিত?প্রকৃতি যেন ঝলমল করছে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায়। হালকা হাওয়ায় ভেসে আসে, দূরে কোন কদম্ব বৃক্ষের নিচে বসে থাকা কোন রাখালের মধুর মধুর বংশী ধ্বনি। এই মন ভোলানো প্রকৃতি দেখে ভুল করে আচমকা ঋতুরাজ বসন্তের দূত কোকিল গেয়ে ওঠে কুহু কুহু রবে। আকাশ যেন নীলিমায় নীল হয়ে সেজেছে শরতের সাজে। এই শোভা দেখে নীল রং ও লজ্জা পাবে। সেই নীল আকাশের বুকে শ্বেতশুভ্র মেঘের দল বিদ্যুৎগতিতে উদভ্রান্তের মতো ছুটে চলেছে এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে।এ দৃশ্য তো শরতের আগমনের কথাই মনে করিয়ে দেয়।অন্তরে গেয়ে ওঠে আগমনী সুর।
কিন্তু না, সেই সুরে যে বারবার তাল কেটে চারিদিকে ধ্বনিত হচ্ছে বিষাদের সুর। কখনো করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বেড়ে চলেছে তো কখনো মৃতের সংখ্যা। যেন একে অপরে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তাকেই সাক্ষী করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ পথে নামছে শুধুমাত্র পেটের তাগিদে। মারণ ভাইরাসের হুঙ্কার, লকডাউন, অর্থনীতি তলানিতে, বেকারত্ব, দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি সব যেন এই ক্ষুদ্র মানুষের উপর দিয়ে স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে। এহেন চরম পরিস্থিতিতে 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি'র মতো ধরা পড়েছে। তাই গ্রীষ্মের আকাশে শরতের উঁকি যতই দেখা যাক না কেন, আগমনীর সুরের পরিবর্তে বিষাদের সুরই প্রতিধ্বনিত হবে। অন্তত এবারের জন্য। পারবে কি করোনা অসুরকে বধ করে মা দুর্গা মূর্তে আসতে? বৃথা আশা মরিতে মরিতেও মরে না অথবা আশায় মরে চাষার মত এ বঙ্গের মানুষ আশায় বুক বাঁধছে।বিষাদের সুরকে হারিয়ে আবার পৃথিবী শান্ত হয়ে আগমনীর সেই অমোঘ সুর শরতের কোনও এক মনোরম প্রভাতে চারিদিকে প্রতিধ্বনিত হয়ে বেজে উঠবে ...জাগো …..জাগো…. দুর্গা….।
