মানির 'ব্ল্যাক' ও 'কাট' নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি - BBP NEWS

Breaking

সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯

মানির 'ব্ল্যাক' ও 'কাট' নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি

বিবিপি নিউজ,নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা: স্বয়ং রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব বলেছিলেন, "টাকা মাটি, মাটি টাকা।"সে দিন ফুরিয়েছে, বদলেছে সময়। এখন তার মূল্যায়ন করতে যাওয়াও বৃথা। কারণ এখন যেই টাকার অধীশ্বর সেই ই সমাজের সর্বশক্তিমান। সে রকম ভাবই প্রকট হয় সর্বত্র। শুধু তাই নয় মাঝে মাঝে মনে হয় স্বয়ং লক্ষী দেবী ও যেন ওই সর্বশক্তিমান দের কাছে ভিক্ষা করতে এসেছেন।এখন প্রশ্ন হলো মানির আবার 'ব্ল্যাক' আছে, আছে 'কাট'। তাই এদের নিবাস কোথায়, কার গর্ভ থেকেই বা এদের জন্ম।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দেশজুড়ে বসন্তের মধু দখিনা বাতাসের মতো মোদি হওয়াতে যখন বুঁদ হয়েছে দেশবাসী,সেই হাওয়ায় ভর করে দেশে শুরু হলো মোদি সরকার। ঠিক তার কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেই মোদি সরকার ঘোষণা করলো 'কালা ধন বাপস আয়গা।'শুধু তাই নয় সুইস ব্যাংকে ভারতীয় দের যে পরিমাণ কালো টাকা বা ব্ল্যাক মানি আছে তা ফেরত আনলে প্রতিটি ভারতীয়কে ১৫ লক্ষ টাকা করে দিয়ে ও বেশি হবে। সেই নিয়ে বিরোধীরা সরব  হয়েছে বারবার।আবার এসেছে মোদি সরকার। কিন্তু সেই ভুত এখনো পিছু ছাড়তে চাইছে না কিছুতেই।

এদিকে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস কিছুটা হলেও বেগ পেয়েছে তার ফলাফল ভোট বাক্সে যে পড়েছে তা স্পষ্ট। কি সেই ফলাফল, বাংলায় ৪২ টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের ঝুলিতে এসেছে ২২ টি আসন,বিজেপির ঝুলিতে গেছে ১৮ টি আসন। আর কংগ্রেস তাদের ঝুলিতে নিয়েছে মাত্র ২টি আসন। বিজেপির এই ধাক্কায় নড়েচড়ে বসেছে তৃণমূল শিবির।গত ৪ জুন নজরুল মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় নেতা থেকে ছোট নেতা সকলকে নিয়েই আত্ম সমীক্ষায় বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর প্রথমেই যে কথাটা নেতাদের উদ্দেশ্যে বললেন সেটা হলো,"কাঠ মানি ফেরত দিন।" আর তাতেই এক্সট্রা অক্সিজেন পেয়ে গেল বিরোধীরা।

 সে যাই হোক সেই ব্ল্যাকমানি ও কাটমানি আবারো ফিরে এলো একুশে জুলাই এর মঞ্চে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীই ব্ল্যাক মানির কথা তুলে ধরে কর্মীদের উদ্দেশ্যে নিদান দিলেন,"ব্লকে ব্লকে বুথে বুথে বিজেপির কাছ থেকে কালো টাকা ফেরত চাইতে হবে। ভোটে বিজেপির নেতারা কে কত টাকা নিয়েছেন, সব ফিরিয়ে দাও। এটাই হবে আমাদের আন্দোলন।" সেই নিয়েই আগামী ২৬ও ২৭শে জুলাই রাজ্য জুড়ে কর্মীদের পথে নামার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী  বিজেপির উদ্দেশ্যে এও বলেন,"তোমাদের দিল্লির পার্টি অফিস তো টেন- স্টার হোটেল। হাজার হাজার,কোটি কোটি টাকা কোথা থেকে এলো? বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে এনে প্রত্যেক ভারতীয় কে ১৫ লক্ষ টাকা করে ফেরত দেবে বলেছিল ওরা। কোথায় সেই টাকা ফেরত দাও সেই টাকা। অন্যদিকে বিজেপি সভাপতি ও মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবিকে নস্যাৎ করে বলেন, "আমাদের কাছে কালো টাকা নেই। তাই ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন নেই। ওঁর হাতেই সরকার, আইন ও ওনার হাতে।তদন্তে প্রমাণ করুন না,কেউ অন্যায় করে থাকলে শাস্তি পাবে।" বিজেপির বিরুদ্ধে কালো টাকা ফেরতের দাবি নিয়ে যখন সোচ্চার হয়েছেন ঠিক তখনই তৃণমূল সুপ্রিমো বিজেপির সাথে ৩৪ বছরের বাম সরকার কেও একই বন্ধনীতে এনে বামেদের তীর নিক্ষেপ করেছেন এবং বলেছেন, "৩৪ বছর সিপিএম এর দখলে পঞ্চায়েত পৌরসভা বিধায়ক সাংসদ ছিল,  কত টাকা ফিরিয়েছে।" এ

প্রত্যুত্তরে অনশনরত শিক্ষকদের মঞ্চ থেকে বামনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন,"সিপিএমের ৩৪ বছরে বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন কখনো তো উনি কাটমানি নেওয়া হয়েছে এই অভিযোগ করতে পারেননি। ক্ষমতায় আসার আট বছর পরে এখন ওঁর মনে হচ্ছে সিপিএম কাটমানি নিয়েছিল আসলে ওঁর নিজের দলের অস্তিত্ব আড়াল করতেই এইসব বলতে হচ্ছে।এখন আমরা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি কমিশন তৈরি করে কারা কারা নিয়েছে তাদের ধরুন।"

Pages