বিবিপি নিউজ: অবশেষে নন্দীগ্রাম মামলা গেল বিচারপতি শম্পা সরকারের এজলাসে। গতসপ্তাহে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। আর এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আগেই বিচারক কৌশিক চন্দ বিচারব্যবস্থাকে কলুষিত করার দায়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করেন।যে টাকা রাজ্য বার কাউন্সিলকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তা ব্যবহার করা হবে করোনভাইরাসের চিকিৎসায়। তবে ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী জানিয়েছেন, সেই জরিমানার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হবে।
সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই কলকাতা হাইকোর্টের নয়া বেঞ্চে নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি হতে পারে। পগত ২ মে রাজ্যে বিধানসভা ভোটে গণনার শুরু থেকে নন্দীগ্রামে এগিয়ে ছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। পরে কয়েকটি রাউন্ডে এগিয়ে যান মমতাও। শেষের দিকে রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি টক্কর হয়। ষোড়শ রাউন্ড পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন মমতা। হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রে কী ফলাফল হয়, তা জানতে সারাদেশের নজর ছিল নন্দীগ্রামের দিকে। প্রাথমিকভাবে সংবাদসংস্থা এএনআই জানায়, ১,২০০ ভোট জিতেছেন মমতা। কিন্তু পরে বিজেপির তরফে দাবি করা হয়, শুভেন্দু জিতেছেন। তা নিয়ে চূড়ান্ত ধোঁয়াশা তৈরি হয়। কয়েকটি মহল থেকে দাবি করা হয়, ১,৯৫৩ ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে জিতেছেন শুভেন্দু। মধ্যরাতের কাছাকাছি নির্বাচন কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, নন্দীগ্রামে পরাজিত হয়েছেন মমতা। তারপরই নন্দীগ্রামে পুনর্গণনার আর্জি জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও কারচুপির অভিযোগ উড়িয়ে দেয় কমিশন। গত মাসে নন্দীগ্রাের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে ইলেকশন পিটিশন দায়ের করেন মমতা। সেই মামলা যায় বিচারপতি চন্দের বেঞ্চে। কিন্তু আইনজীবী থাকাকালীন বিজেপির হয়ে একাধিক মামলা লড়ায় বিচারপতি চন্দের বেঞ্চ থেকে মামলা সরানোর আর্জি জানিয়েছিলেন মমতা। সেই আর্জি অবশ্য ধোপে টেকেনি। বিচারপতি চন্দের বেঞ্চেই মামলা রেখে দেওয়া হয়। পরে নিজে থেকেই মামলা থেকে সরে যান বিচারপতি চন্দ। অবশেষে সেই মামলা গিয়েছে নতুন এজলাসে অর্থাৎ বিচারপতি শম্পা সরকারের এজলাসে।
