ফলতা বিধানসভার সব বুথে ভোট বাতিল, পুনরায় ভোট ২১ মে - BBP NEWS

Breaking

রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

ফলতা বিধানসভার সব বুথে ভোট বাতিল, পুনরায় ভোট ২১ মে

 




বিবিপি নিউজ: ফলতার গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল বলে ঘোষণা করলেন নির্বাচন কমিশন। ওই বিধানসভা কেন্দ্রের সব বুথে পুনরায় ভোট ঘোষণা করলেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের সাফল্যে ব্যর্থতার ‘দাগ’ লাগিয়ে দিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। এমন পরিস্থিতি সাম্প্রতিক অতীতে অন্তত পশ্চিমবঙ্গে ঘটেছে বলে কেউ মনে করতে পারছেন না। আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫ ভোটকেন্দ্রে আবার ভোটগ্রহণ হবে। আর ভোটগণনা হবে আগামী ২৪ মে। এর ফলে সোমবার ফলতা বাদে রাজ্যের ২৯৩ আসনে ভোটগণনা হবে।



শনিবার রাতে নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ফলতা বিধানসভার ভোটগ্রহণের বিষয়টি জানিয়েছে। কমিশন ২৯ এপ্রিল, বুধবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে যে ভোটগ্রহণ হয়েছে, তা পুরোটাই বাতিল করেছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ফলতার বহু ভোটকেন্দ্রে গুরুতর নির্বাচনী অপরাধ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে গোটা বিধানসভা কেন্দ্রেরই গত বুধবারের ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।


প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে থেকেই খবরের শিরোনামে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা বনাম ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের মধ্যে ‘ঠান্ডা লড়াই’ শুরু হয়। ভোটের দিন ওই ফলতাতেই ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে পুনর্নির্বাচন চেয়ে আবেদনও যায় কমিশনের কাছে। কোন বুথে পুনর্নির্বাচন হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্ক্রুটিনি করে কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকেই বেশি বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জমা পড়েছিল। সেই তালিকায় ছিল ফলতাও। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে ফলতা, মগরাহাট, ডায়মন্ড হারবার-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে যান কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুনর্নির্বাচন সংক্রান্ত রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠান সুব্রত। সূত্রের খবর, সেই রিপোর্টে বিশেষ করে উল্লেখ ছিল ফলতার নাম। কমিশনের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে সুব্রত জানান, ফলতার প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচন করানো হোক। কেন তিনি পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন, তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, ফলতায় পুনর্নির্বাচন সংক্রান্ত স্ক্রুটিনিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য ধরা পড়েছে। ফলতার একাধিক বুথে নাকি ক্যামেরাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল! নেটওয়ার্কের কারণে কন্ট্রোল রুমে সেই তথ্য আসেনি। তা ছাড়া বেশ কয়েকটি বুথে ইভিএমে টেপ লাগিয়ে বিভিন্ন দলের প্রতীক ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভোটের দিন প্রিসাইডিং অফিসার দুপুর ১টায় জানান, টেপ তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তত ক্ষণে ওই বুথগুলিতে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে ওই বুথগুলির ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাই এই বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয় কমিশনকে। তার পরেই কমিশন নতুন করে আবার ফলতা বিধানসভায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিল।




Pages