Exclusive: লকডাউনে স্তব্ধ দেশ,ঘরে বসে কর্তব্যে অবিচল কালনা কলেজের অধ্যাপকেরা;নিচ্ছেন ই-ক্লাস! - BBP NEWS

Breaking

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০

Exclusive: লকডাউনে স্তব্ধ দেশ,ঘরে বসে কর্তব্যে অবিচল কালনা কলেজের অধ্যাপকেরা;নিচ্ছেন ই-ক্লাস!

বিবিপি নিউজ,মাসুদূর রহমান: গোটা বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাসে অবরুদ্ধ। ভাইরাসের থাবায় মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে কয়েক লাখ মানুষের দেহে  মরন ভাইরাসের রিপোর্ট পজেটিভ মিলেছে। সেই নিরিখে ভারতেও আক্রান্তের সংখ্যা  হাজার ছাড়িয়েছে। গোটা দেশে মৃত্যু হয়েছে এখন পর্যন্ত ২৭ জনের।‌ এরই মধ্যে রাজ্যে দুই‌ জন প্রান হারিয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তবে এরই মাঝে‌ সুখবরও দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ভাইরাসের থাবা থেকে‌ এখনও পর্যন্ত ৯৬ জন সুস্থ হয়েছেন।
জরুরি পরিস্থিতিতে দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, নাগরিকদের ঘরে থাকার জন্য আবেদন করতে একপর্যায়ে অলিখিত কারফিউ জারি করেছে। এই সময়ে শুধুমাত্র চিকিৎসা ক্ষেত্রে, অত্যবশ্যক পন্য ও সংবাদমাধ্যম, আইন, প্রশাসনের ছাড় রয়েছে। এমন জরুরি পরিস্থিতিতে বাতিল করা হয়েছে একাধিক পরীক্ষা, এমনকি সিবিএসসি ও রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। কিন্তু পড়ুয়াদের কথা ভেবে এগিয়ে এলেন রাজ্যের বিভিন্ন কলেজের অধ্যাপকেরা। লকডাউন পরেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলেই কলেজের পরীক্ষা শুরু হবে। দেশের এমন সময় ঘরবন্দী অবস্থায় ই-ক্লাসের মাধ্যমে পড়ুয়াদের ক্লাস শুরু করলেন কালনা কলেজের গণিতের অধ্যাপক ডঃ অভিষেক মুখোপাধ্যায় ও তাঁর সহকর্মীবৃন্দরা। এদিন কালনা কলেজের মাননীয়  অধ্যক্ষ ডঃ তাপস কুমার সামন্ত মহাশয়ের উদ্যোগে বাড়িতে বসেই কলেজের ক্লাস শুরু করে দিয়েছেন একেবারে নিয়মমাফিক।
কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ সামন্ত জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পর থেকেই পড়ুয়াদের যাতে কোনোরকম পড়াশোনার অসুবিধা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা ই-ক্লাসের উদ্যোগ নিয়েছি। এই বিষয়ে কলেজের অধ্যাপকধ্যপ ডঃ মুখোপাধ্যায় কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান যে ছাত্রছাত্রীরা হটাৎ করেই এক গভীর সমস্যার  মধ্যে পড়েছে। দ্বিতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে চলেছে। কারণ এই করোনা মহামারী রোগের বিধ্বংসী প্রভাবে সমগ্র বিশ্ব ও দেশের লকডাউন পরিস্থিতিতে  21 দিন থেকে বেড়ে আরো বেশ কয়েক মাসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আর সেই জন্যেই আধুনিক প্রযুক্তি কে ব্যবহার করে পুরোদমে এবং বিভিন্ন উপায়ে ছাত্রছাত্রীদের কলেজের ক্লাসরুমের অনুভূতি দেওয়ার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন,নিয়মিত বোর্ড ওয়ার্ক করছেন, লেকচার  নোটস দেওয়া, ইউটিউবে লাইভ স্ট্রিমিং ও  ডিসকাশন সেশন্স করছেন। শুধু গণিত বিভাগ নয় কালনা কলেজের প্রায় সব বিভাগ এই প্রয়াসে সামিল। অধ্যক্ষ মহাশয় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ইংরেজি বিভাগের অনিন্দ্য পাল , ইতিহাস বিভাগের ডঃ মালিক ঘোষ , ফিজিক্স বিভাগের ডঃ ব্রততী চৌধুরী , এডুকেশন বিভাগের অনিকেত সূত্রধর , সোমা গোল , কেমিস্ট্রি বিভাগের ডঃ বিশ্বজিৎ দাস,পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের ডঃ প্রবীরদাস ঘোষ ও আরো অনেকে।  তিনি জানান ছাত্রছাত্রীরা খুবই উপকৃত হচ্ছে ও পড়াশোনা করার পরিবেশটা পাচ্ছে যাতে নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও অন্যান্য  পরীক্ষার জন্য তারা প্রস্তুত থাকতে পারে ও সফল হতে পারে। কালনা কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ তাপস কুমার সামন্ত জানান একদম কলেজ এর ক্লাস রুটিন অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীদের সুবিধে অনুযায়ী ক্লাস নেওয়া চলছে এবং প্রত্যেক ক্লাসেই 85% ছাত্রছাত্রী ই-ক্লাস করছে। সবাইকে যাতে এতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় অধ্যাপক অধ্যাপিকারা তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু কালনা কলেজেই নয়, লকডাউন পরিস্থিতি ঘরবন্দী অবস্থায় কলকাতা ইউনিভার্সিটি, পশ্চিমবঙ্গ রাস্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজ্যের বেশ কিছু ইউনিভার্সিটির অন্তর্গত  কলেজে ই-পদ্ধতি অবলম্বন করে চলছে পঠনপাঠন। তবে  ছাত্রছাত্রীদের অধিকাংশের স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটার থাকলেও‌ বেশ কয়েক শতাংশ পড়ুয়াদের কাছে‌ নেই আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোন বা অনেক পড়ুয়াদের কাছে তা থাকলেও নেটওয়ার্ক সমস্যার জেরে তারা এই ক্লাস করতে পারছেন না।  

Pages