বিবিপি নিউজ,মাসুদূর রহমান: ইরান ইসরাইলের সংঘাত চরম পর্যায়ে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে সংকট বাড়ছে জ্বালানির। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে ইলেকট্রনিক গাড়ির উপর জোর দিচ্ছে বেইজিং। একের পর এক চমকপ্রদ ফিচারের এসইউভিতে নিয়ে এসেছে চিনের ইভি কোম্পানিগুলো। স্মার্ট ফিচারের পাশাপাশি এসইউভিতে রয়েছে যান্ত্রিকভাবে পা মালিশের ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে দেখা গেল বিলাসবহুল মিনিভ্যান। এই মিনিভ্যানের বৈশিষ্ট্য হলো, এতে আসন সরিয়ে নেওয়া যায়, অর্থাৎ প্রথম সারির আসন পিছিয়ে নেওয়া যায় এবং পেছনের সারির আসন সামনে আনা যায়। এখানেই শেষ নয়, অনেক গাড়িতেই আছে পেশাদার মানের স্পিকারসহ কারাওকে। কোনো কোনো গাড়ির হেডলাইট দিয়েই দেয়ালে সিনেমা প্রজেক্ট করার সুবিধা পর্যন্ত আছে। ফলে চাইলেই কেউ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে দেয়ালে সিনেমা দেখতে পারেন। এমনকি তুলনামূলক সাশ্রয়ী গাড়িতেও আছে স্মার্ট ড্রাইভিং ফিচার।
চীনের গাড়ি কোম্পানি গুলো বৃহৎ পরিসরে এবং তুলনামূলক কম দামে গাড়ি তৈরি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বড় সুবিধা—ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যখন তেল-গ্যাসের দাম বাড়ছে, তখন এসব গাড়ির বৈদ্যুতিক বা হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের পার্থক্য এখন স্পষ্ট। গত বছর ওয়াশিংটন বৈদ্যুতিক গাড়িতে (ইভি) ভর্তুকি কমিয়ে উল্টে জ্বালানি নির্ভর গাড়িতে একধরনের প্রণোদনা দিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থানীয় শিল্প রক্ষার যুক্তিতে কার্যত বাজারে চীনা গাড়ির বাজারে প্রবেশ আটকে দিয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রেক্ষাপটে চীনের ইভি কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক চাহিদার দিকে নজর রাখছে—এই পরিস্থিতিতে কি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের দরজা খানিকটা হলেও খুলতে পারে। তবে একটি বার্তা স্পষ্ট। সেটা হলো, প্রায় ৭০টি ফুটবল মাঠের সমান এই প্রদর্শনী কেন্দ্রে চীন দেখাতে চেয়েছে, একবিংশ শতকের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় তারা নিরলসভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
চীনের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা ও বেইজিং সরকারের বাজি, বিশ্ব শেষ পর্যন্ত তাদের কল্পিত বৈদ্যুতিক ভবিষ্যৎই বেছে নেবে, তেলনির্ভর পুরোনো পথ নয়। চীনের বৃহত্তম ইভি কোম্পানি বিওয়াইডির নির্বাহী স্টেলা লি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অনেকের জন্য ‘জাগরণী বাণী’। একবার বৈদ্যুতিক গাড়ি চালাতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আর পেছনে ফিরে পেট্রলচালিত গাড়ি চালাতে ইচ্ছে করবে না।ইভির বাজারে চীন অনেক এগিয়ে। দেশটিতে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ির অর্ধেকের বেশি এখন বৈদ্যুতিক বা হাইব্রিড। বড় শহরগুলোতে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে ইঞ্জিনের শব্দ—তার জায়গা করে নিচ্ছে বৈদ্যুতিক মোটরের মৃদু আওয়াজ। তবে দেশের ভেতরেই চলছে বাজার দখলের তীব্র লড়াই। মূল্যযুদ্ধ, প্রতিযোগিতা ও অতিরিক্ত সরবরাহে মুনাফা কমে যাচ্ছে, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রবৃদ্ধি। সে কারণেই কোম্পানিগুলো বিদেশের বাজারে সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা, বিদেশি ক্রেতা ও অংশীদার টানার চেষ্টা চলছে জোরেশোরে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের ইভি রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেড়েছে।

