বিবিপি নিউজ,জ্যোতির্ময়ী রায়,বসিরহাট: স্বামীর সামনেই ৩ বছরের ছেলেকে কোলে নিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় প্রেমিকের গলায় ভোজালি চালিয়ে খুন করে ফেলল মহিলা। একজন মহিলাকে প্রকাশ্যে এমনকাণ্ড ঘটাতে দেখে হতভম্ব হয়ে যান বসিরহাটের খোলাপোতার মানুষ। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম আশিক গাজি (৩৪)। তাঁকে খুনের অভিযোগে মারুফা বিবি, তার স্বামী আরিজুল দফাদার এবং ভাশুরপো আজাহার দফাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরবাইক নিয়ে খোলাপোতা মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বছর পঁয়ত্রিশের এক যুবক। অন্য গাড়িতে তার পিছু ধাওয়া করে সেখানে নামে ওই মহিলা। কোলে তার তিন বছরের বাচ্চা। যুবককে দেখেই মহিলার সঙ্গে বচসা শুরু হয়। মহিলা চড় মারে ওই যুবককে। পথচলতি মানুষ ভেবেছিলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে হয়তো ঝগড়া চলছে। কিন্তু ওই মহিলা আচমকাই ওড়নার ভেতর থেকে ভোজালি বের করে সোজা ঢুকিয়ে দেয় যুবকের গলায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। মহিলার স্বামী এবং ভাশুরের ছেলে সেখানে দাঁড়িয়ে হতভম্ব হয়ে যান।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৯টা নাগাদ প্রকাশ্যে এই ঘটনা দেখে পথচলতি কয়েকশো মানুষ হকচকিয়ে যান। মহিলা-সহ তিনজন পালাতে গেলে উত্তেজিত জনতা তাদের ধরে ফেলে। গণধোলাই দিয়ে পুলিশে হাতে তুলে দেয়। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান অপরেশ মুখোপাধ্যায় বলেন, 'বাজার করতে করতে শুনি খুন হয়েছে। থলে রেখে কোনও রকমে ছুটে এসে দেখি গণরোষের শিকার হয়েছে এক মহিলা-সহ তিনজন। আমি শান্ত করি।'
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাটিয়া থানার ঝুরুলি গ্রামে বাড়ি আরিজুল দফাদার, স্ত্রী মারুফা বিবি'র। তাদের ২ ছেলে মিনহাজ ও মিনতাজ।
আরিজুল কলকাতার হোটেলে কাজের সুবাদে বাড়িতে থাকে না। বছর দুয়েক হল বাংলাদেশ থেকে ওই গ্রামে আসেন আশিক। স্থানীয় মেছোভেড়িতে কাজ করতেন। আশিকের সঙ্গে মারুফার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অবৈধ মেলামেশা শুরু হয় তাদের। এ দিন গ্রামে গেলে শাশুড়ি আকলিমা বলেন, 'ছেলে বাড়ি না থাকার সুযোগ নিয়ে বউমাকে নানা ভাবে উত্ত্যক্ত করত আশিক। কয়েক দিন আগে তাকে হুমকিও দিয়েছে।' প্রাথমিক জেরায় মারুফা পুলিশকে জানায়, বিষয়টি নিয়ে সোমবার রাতে স্বামীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এই ঘটনার একটা হেস্তনেস্ত করবে ভেবে সে এ দিন সকালে ছোট ছেলে মিনতাজ এবং একটা ভোজালি সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
ঘটনার পর মারুফা জানান, বন্ধুত্ব কখনও এতটা নিচে নামতে পারে, তা আশিককে না দেখলে বোঝা যায় না। ভয় দেখিয়ে হুমকি দিয়ে আমার সর্বনাশ তো করেই ছিল, তার ওপর কয়েকদিন ধরে স্বামী-সন্তানদের খুনের হুমকি দিয়ে আমাকে তুলে নিয়ে যাবে বলে ভয় দেখাচ্ছিল। তাই আমার কাছে হয় মরা, না হয় মারা ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না।
