![]() |
| অর্ণব |
সবে নেশাটা ভেঙেছে বংশীর, রাত তিনটে বাজে । বংশীর অবশ্য এটা ভালো গুন যতই নেশা করুক ঠিক রাত তিনটের মধ্যে ঘুম ভাঙবে । আড়মোড়া দিয়ে ঘুম থকে উঠতেই ক্লাব ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মদের বোতলগুলো, চিপ্সের প্যাকেট, সব পরিস্কার করে বাইরের ডাস্টবিনে ফেলতে গিয়ে নজরে পড়ল কালকের পতাকাটার উপর । কাল সকালে ক্লাব সভাপতি নন্তুদা এটা দড়ি টেনে উপরে উঠিয়েছিলো তারপর আর কেউ নামাইনি, হয়তো ভুলেই গেছে । ভোরের হাওয়ায় পতাকাটা একেবারে নেতিয়ে পড়েছে,একটা কথা মনে পড়ায় ফিক করে হেসে ফেললো বংশী, মনে পড়লো ও যখন গলা পর্যন্ত দারু টেনে বেঁহুশ হয়ে বেশ্যা পড়ায়
গিয়ে ফুর্তি করে তারপর মাল পড়ে যাবার পর ওর পুরুষাঙ্গটা নেতিয়ে যায় আর বংশী ন্যাংটো অবস্থায় ভোঁস ভোঁস করে ঘুমিয়ে পড়ে তখন বংশীর জাঙিয়াটা কেউ পড়িয়ে দেয়না, ভোর বেলা উঠে বংশীকেই আবার পড়তে হয় । পতাকাটার হালও বোধ করি সেরকমই , নিজের কথা মনে করে বেচারা পতাকাটার জন্য বংশীর খুব খারাপ লাগে, ন্যাতানো পতাকাটা দেখে বংশীর খুব মায়া হয় ।অনেক দিন আগে এরকমই একটা পতাকা বাসন্তীর বিছানায় পেতে রাখা ছিলো, কে জানে কোথা থেকে পেয়েছে ।
বউটা চলে যাবার পর থেকেই বংশী আর ঘরে মন বসাতে পারেনি, সন্ধ্যেবেলা ঠেলা চালিয়ে ফেরার পর থেকে এই ক্লাবেই তার আস্তানা । নিশ্চিন্তপুরের দেশপ্রেমিক ক্লাব এ তল্লাটের সেরা ক্লাব, সাংস্কৃিতক অনুষ্ঠান হোক বা পূজোআর্চাই হোক দেশপ্রেমিকের সামনে কোন শালাই দাঁড়াতে পারেনা । আর এই জন্য ভোটের সময় সব নেতাই এই ক্লাবের সদস্যদের পকেটে বাঁধা থাকে, তার অবশ্যি সবচেয়ে বড় কারন ১৫০র উপর সদস্য এখানে । এই নেতারাই আবার প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে মাল মাংসের খরচও দেয়, হাতে নগদ কিছু প্রাপ্তি অবশ্যই ঘটে বইকি । বংশী বিড়ি আর দেশী মাল টেনে রাত দশটার মধ্যে এককোনে শুয়ে পড়ে আর ভোর বেলায় উঠে সব ঝাড়পোঁছ করে সকালবেলা বেড়িয়ে যায় ।
দুদিন ধরে খুব মিটিং হয়েছে ক্লাবে, ১৫তারিখ কি কি অনুষ্ঠান হবে । তবে সবচেয়ে ভালো অনুষ্ঠানটা বোধ হয় ইংরেজির আয়োজন, এমনিতে বংশীর গান বাজনা এতো ভালো লাগেনা আর বংশীর রক্তও কেউ নেয়না । তাই বংশী জানে ছাব্বিশে জানুয়ারীই হোক বা পনেরোই আগষ্ট হোক কিম্বা গান্ধী জয়ন্তী বা হোলি এগুলোতে তার পাতে চিকেন মর্টনের সাথে পেটপুড়ে ইংরেজি মালটা সে খেতে পাবে । সকাল থেকে যতই "এ্যায় মেরে বতন কে লোগো" গানটা চলব মালের পারা ততই চড়বে, এই ক্লাবের বৈশিষ্ট্য হলো প্রথমে মাল কম আসবে পড়ে প্রথমবারের থেকে দ্বিগুন আসবে আর তাই বংশী জানে আজ মালে মাংসে তার কোন অভাব হবেনা । এইদিনগুলোতে বংশীর নিজেকে কোন জমিদারের চেয়ে কম মন হয়না, তাই এইদিনগুলো বংশী আর ঠেলা না চালিয়ে বেশ আয়েশ করেই কাটায় ।
পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে একটা লম্বা স্যালুট ঠুকে নিলো বংশী, স্যালুট ঠোকাটা অবশ্য সে ক্লাবের ছেলেদের কাছে শিখে নিয়েছে । কোনমতে দড়িটা টেনে পতাকাটা নামিয়ে নেয় বংশী, সে জানেনা কেনই বা এইদিনগুলোতে এই তিনরঙা পতাকাটা টাঙানো হয় আর কেনই বা খুলে রাখতে হয় । তবে নন্তুদা, রানাদা এরা বলে সন্ধ্যে হবার আগেই খুলতে হবে যদিও কেউ আর খোলার মত অবস্থায় থাকেনা তাই তাকেই খুলতে হয় প্রতিবার । আজকেও তার ব্যতিক্রম হলোনা, কিন্তু ব্যতিক্রম হলো যেটা, সেটা হলো পতাকাটা ভাঁজ করে বংশী ওটাকে বুকে নিয়ে কেঁদে ফেললো । কেন কাঁদলো তা জানেনা হয়তো পতাকাটার জন্য মনখারাপ হবে বোধ হয় । ক্লাবের ট্রাঙ্কে পতাকাটা ভাঁজ করে ঢুকিয়ে মাইকটা চালিয়ে দিয়ে ঠেলা নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো সে, কানে বাজছে তখন "সারে জাঁহা সে আচ্ছা "..... ।।
