৫০-এ শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষে মনোজ্ঞ সভা - BBP NEWS

Breaking

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২০

৫০-এ শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষে মনোজ্ঞ সভা

বিবিপি নিউজ,অশোক সেনগুপ্ত: শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের ৪৯ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শনিবার এক মনোজ্ঞ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় কলকাতায় বাংলাদেশ উপ দূতাবাসে।

১৯৭১ এর ৭ মার্চ বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিব এই ভাষণ দিয়েছিলেন। আমন্ত্রণেই কলকাতায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনার তৌফিক হাসান জানিয়েছিলেন, “ঐতিহাসিক এই ভাষণ ‘মেমোরি অফ দি ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’- এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটি একটি বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের কৃতিত্বের স্বীকৃতি। বাঙালির অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। চিরস্থায়ী বিশ্ব ঐতিহ্যের সঙ্গে এটা সম্পৃক্ত হয়ে থাকবে।“ এ দিন তিনি মঞ্চ থেকে বলেন, ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক বার্তা দিয়েছিলেন। যুদ্ধের কৌশল সম্পর্কে তিনি পরিস্কার ভাষায় যে দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।
এ দিন আলোচনার শুরুতে একাত্তরের ঐতিহ্যপূর্ণ ওই ভাষণের ডকুমেন্টারি পেশ করা হয়। এর পর উপ দূতাবাসের কাউন্সিলর মোঃ বশির উদ্দিন রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন। উপ দূতাবাসের প্রথম সচিব মোহম্মদ মোফাখখারুল ইসলাম পাঠ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বাণী। আলোচনায় অংশ নেন উপদূতাবাসের মিনিস্টার (রাজনৈতিক) ও দূতাবাস প্রধান জামাল হোসেন, কাউন্সিলর (শিক্ষা ও ক্রীড়া) শেখ সফিউল ইমাম।
এদিন আলোচনায় অংশ নেন কবি ও সাংবাদিক পঙ্কজ সাহা, প্রাবন্ধিক শমীক বন্দোপাধ্যায়, বাংলাদেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ প্রমুখ। বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে জাতিবিদ্বেষের  বিরুদ্ধে কবিতার মত বলে অভিহিত করেন শমীকবাবু। নাসিরউদ্দিনবাবু বলেন, ১৯৭১ থেকে বারবার কলকাতায় এসে যে রকম আন্তরিকতা পেয়েছি,তা কোনও দিন ভোলার নয়। বাংলাদেশে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ‘তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব শেখ মুজিব‘, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘গঙ্গা পদ্মা যমুনা-কে নিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার বিভিন্ন স্লোগানের উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, মশাল ধরে সে সময় মিছিল করতাম। মনে পড়ছে সে সব কথা।
এ দিন আলোচনার পর ছিল কবিতা পাঠের আসর।  মুনমুন মুখার্জি পাঠ করেন নির্মলেন্দু গুণের লেখা স্বাধীনতা বিষয়ক একটি কবিতা। সতীনাথ মুখোপাধ্যায় পাঠ করেন ওপার বাংলার আর এক প্রথিতযশা কবি ইমদাদুদ হক মিলনের ‘ধূসর পান্ডুলিপি‘। সতীনাথ বলেন, “এর মাধ্যমে ইতিহাসকে হওয়ার চেষ্টা করলাম।“ অনুষ্ঠানের সংযোজনার দায়িত্বে ছিলেন প্রথম সচিব (রাজনৈতিক ১) সনজিদা জেসমিন। শেখ মুজিবের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে এদিনের আলোচনার জন্য অনুষ্ঠানের উপযোগিতা ছিল একটু অন্যরকম।

Pages