বিবিপি নিউজ: প্রায় দু'বছর পর রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে অফলাইনে। মারন ভাইরাসের কারণে বন্ধ ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। জনস্বার্থ মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে বলেন, জরুরি অবস্থা জারির মতন পরিস্থিতি। সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি সেকেন্ডে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রয়োজন। তা অনৈতিক ভাবে বন্ধ করা হয়েছে। হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করে রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিতে লাগাম টানুক।
মামলাকারীর আইনজীবী বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে
পাল্টা যুক্তি সাজিয়েছে রাজ্যও। দু'পক্ষের বক্তব্য শুনে রাজ্যকে হলফনামা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে বলেন,''রাজ্যের কোথাও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপ চিটিং, অনলাইনে পরীক্ষা সংক্রান্ত চিটিং কীভাবে হয়, আদালতকে অনুরোধ করছি একবার দেখুন। আইবি ইনপুটও ছিল এ বিষয়ে। নির্দিষ্ট ভাবে রাজ্যের কাছে রয়েছে সেই তথ্য। আর গোয়েন্দাদের সেই তথ্যকেই হাতিয়ার করেছে রাজ্য সরকার। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩.১৫ পর্যন্ত বন্ধ থাকছে ইন্টারনেট। ৪ ঘন্টা ১৫ মিনিট বন্ধ থাকছে। ৮ দিনের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। দার্জিলিং, বাগডোগরা, বীরভূম ৫ ব্লক, কোচবিহারে ৬ ব্লক, উত্তর দিনাজপুর ও মালদহের নির্দিষ্ট জায়গাতেই বন্ধ। রাজ্যের তরফে আরও বলা হয়, ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হলেও তা যুক্তিসঙ্গত সীমাবদ্ধতা। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে শুধুমাত্র কয়েকটি জায়গায় তা বন্ধ করা হচ্ছে।এর জন্য কোনও ছাত্র আদালতে এসে বলেনি ইন্টারনেট বন্ধে অসুবিধার কথা। কোনও ব্যবসায়ী এসেও বলেনি ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধে ক্ষতি হচ্ছে। আগামীকাল সকাল ১১টায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ নিয়ে রিভিউ মিটিং রয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটির। সেই সিদ্ধান্তের উপর আদালত আস্থা রাখুক।