বিবিপি নিউজ: ব্রিটিশ শাসনের জঠর থেকে বেরিয়ে ভারতের সঙ্গে জন্ম ইস্তকই পাকিস্তানের গণতন্ত্র দুর্বল। সেনাবাহিনীর সমর্থন ছাড়া সে দেশে ক্ষমতায় আসা এবং ক্ষমতায় টিকে থাকা কার্যত অসম্ভব। যিনি যখন ক্ষমতা পাচ্ছেন, সেনার আশীর্বাদ সঙ্গে নিয়েই তা পাচ্ছেন তিনি। মাথার সেই হাত সরে গেলে তাঁর পতনের রাস্তা প্রশস্ত হওয়াটা অবধারিত। ইমরান খানের দুর্গতি সেই পরম্পরাতেই নয়া সংযোজন মাত্র। আর পাকিস্তানের রাজনৈতিক ময়দান যে ক্রিকেটের পিচ নয়, প্রাক্তন ক্যাপ্টেন ও প্রধানমন্ত্রী এতদিনে টেরও পেয়েছেন হাড়ে হাড়ে।
স্বৈরতন্ত্র ও গণতন্ত্রের এমন হাত ধরাধরিতেই পাকিস্তান আজ 'ব্যর্থ রাষ্ট্র'-এ। সেনাবাহিনী যদি সর্বক্ষণ প্রশাসনের ঘাড়ে শ্বাস ফেলে এবং প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে, সেটা গণতন্ত্র তো নয়ই, গণতন্ত্র-বেশী রাজনীতি হিসাবেও তা ব্যর্থ। এই ছদ্ম-গণতন্ত্র পাকিস্তান বহন করে চলেছে দশকের পর দশক। তবে এর মধ্যেই সেনা, আইএসআই ও পাক শাসকদের যুগলবন্দি মদত দিয়েছে জিহাদিদের। এখনও ছেদ নেই সেই ধারাতে। বিশ্ব-রাজনৈতিক দাবাখেলায় পাকিস্তানের দণ্ডমুণ্ডের কর্তাদের মদত জুগিয়েছে আমেরিকা। আবার প্রয়োজন শেষে ইসলামাবাদকে ছুড়েও ফেলে দিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের হালের রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে এমন একটা সময়ে, যখন সে দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, সন্ত্রাসবাদী হামলায় পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন। কোষাগারের হাল শোচনীয়। শাসক বা বিরোধীরা পারস্পরিক তোপে যত সময় ব্যয় করেছেন, অর্থনীতির হাল ফেরানো নিয়ে তত চিন্তা করেননি। এখন আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার যদি সদয় না হয়, তাহলে ঋণের ফাঁদে পুরোপুরি ডুবে যেতে পারে দেশ।
অশান্তি, বিশৃঙ্খলা আরও খাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তানকে। প্রতিবেশী দেশটির এমন সঙ্কট নিয়েই এবার *TV9 বাংলার নতুন নিউজ সিরিজ 'পা পিছলে পাকিস্তান'। ৪ জুন, রবিবার রাত ১০টা।*
