গেরুয়া ঝড়ে উপড়ে গেল ঘাসফুলের বহু হেভিওয়েট মন্ত্রী-সান্ত্রীরা! হারলেন কোন কোন তৃনমূল-নেতা? - BBP NEWS

Breaking

মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

গেরুয়া ঝড়ে উপড়ে গেল ঘাসফুলের বহু হেভিওয়েট মন্ত্রী-সান্ত্রীরা! হারলেন কোন কোন তৃনমূল-নেতা?

 


বিবিপি নিউজ: সোমবার ঘাসফুল জমানার অবসান।  ৪ মে প্রকাশিত হল রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ২৯৩টি আসনের  ফলপ্রকাশের পর রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের ছাপ স্পষ্ট। রাজ্যের বিভিন্ন আসনে হেরে গিয়েছেন তৃণমূলের তাবড় তাবড় প্রার্থী। অনেকে হেরেছেন বিজেপির তুলনামূলক ভাবে ‘অনামী’দের কাছেও। নির্বাচনের আবহে তৃণমূলের বেশ কয়েক জন হেভিওয়েট মন্ত্রী-সান্ত্রীরা ধরাশায়ী পদ্ম শিবিরের কাছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।


প্রথমেই আসে, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃনমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরে নিজের ঘরের মাঠে তারই এক সময়ের সঙ্গী বিজেপির দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গিয়েছেন। তবে জিতবেন না, তা সম্ভবত ভাবেননি মমতা নিজেও। ঘরের মেয়ের হার হল ঘরেই। হাবড়া বিধানসভায় গেরুয়া ঝড়ে ধরাশায়ী দিদির আস্থাভাজন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু)। তৃণমূল গঠনের সময় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী জ্যোতিপ্রিয়। তবে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকে বঙ্গ রাজনীতির নজর ছিল তাঁর দিকে। রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে নাম জড়িয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দীর্ঘ সময় জেলে কাটানোর পর থেকে ক্ষতবিক্ষত তাঁর জীবন। তাঁকে তৃণমূলের প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে শেষমেশ তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছিলেন মমতা। ষষ্ঠ বার বিধানসভায় যাওয়ার লক্ষ্যে আবার হাবড়ার মাঠে নেমেছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। তবে এ বার ভোট বৈতরণী পার করতে পারেননি তিনি। ৩১ হাজারের বেশি ভোটে হাবড়া থেকে হেরে গেলেন বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলের কাছে। 



টালিগঞ্জ কেন্দ্রে তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ নেতা অরূপ বিশ্বাস দাঁড়িয়েছিলেন । বিজেপির পাপিয়া দে অধিকারীর কাছে ৬ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গিয়েছেন। অন্যদিকে শশী পাঁজা তৃণমূলের হয়ে এ বারও শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ছিলেন বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তী। ১৪৬৩৩ ভোটে শশীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন পূর্ণিমা। নির্বাচনী যুদ্ধে টিকতে পারলেন না তিনি। দমদম কেন্দ্রে ২৫২৭৩ ভোটে হেরে গেলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ওই কেন্দ্রে জিতেছেন বিজেপির অরিজিৎ বক্সী। মনে করা হচ্ছিল, ব্রাত্যের লড়াই তুলনামূলক ভাবে সহজ। কিন্তু ফল তা বলল না। শেষমেষ ভরাডুবি হল। অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে এ বারও দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। বিজেপির সৌরভ সিকদারের কাছে ২৬ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গিয়েছেন তিনি। ২০১১ সালেই দমদম উত্তরের বিধায়ক হয়েছিলেন চন্দ্রিমা। ২০১৬ সালে ওই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্যের কাছে পরাজিত হন। ২০১৭ সালের উপনির্বাচনে কাঁথি দক্ষিণ থেকে জিতেছিলেন তিনি। পরে ২০২১ সালের ভোটে আবার দমদম উত্তরে লড়েন এবং জেতেন। তবে জয় এল না ২০২৬-এর নির্বাচনে।  ‘স্পর্শকাতর’ ভাঙড়ে তৃণমূলের শওকত মোল্লার লড়াই ছিল বিদায়ী বিধায়ক তথা আইএসএফ-এর নেতা নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে। গত বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় থেকে জিতে বিধায়ক হন নওশাদ। তাঁকে হারাতে তৃণমূলের তুরুপের তাস ছিল ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক শওকত। কিন্তু ভাঙড়ের হিসাব বদলায়নি। ৩২০৮৮ ভোটে জিতেছেন নওশাদই। 


Pages