বিবিপি নিউজ: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্য সামনে আসার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। কারণ নেতাজি শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি বাঙালির আত্মমর্যাদা, জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অমর প্রতীক। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কিন্তু বিরোধী শিবিরের একাংশ তখন প্রশ্ন তুলতে শুরু করে, এ কি শুধুই রাজনৈতিক বক্তব্য, নাকি সত্যিই কোনও পদক্ষেপ করা হবে?
দীর্ঘ বিতর্কের পর শুক্রবার সকালে অনন্ত মহারাজ প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু শুধুমাত্র ক্ষমা চাইলেই দায় শেষ হয়ে যায় না, এই বার্তাই কার্যত দিল সরকার। মুখ্যমন্ত্রীও স্পষ্ট করে জানান, ক্ষমা চাওয়া ভালো, কিন্তু যে মন্তব্য করা হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুতর এবং ক্ষমার অযোগ্য। এরপরই কোচবিহার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। একজন বর্তমান রাজ্যসভার সাংসদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বার্তা বহন করে। এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দিল, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা সাংসদ পদ কোনও সুরক্ষা-কবচ হতে পারে না। প্রসঙ্গত ক্ষমতায় আসার আগে শুভেন্দু অধিকারী বারবার একটি কথাই বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে ফিরবে আইনের শাসন, চলবে না শাসকের আইন। প্রশাসন কোনও ব্যক্তি, দল বা পদমর্যাদার দিকে তাকিয়ে কাজ করবে না; আইন সবার জন্য সমান হবে। সাম্প্রতিক অনন্ত মহারাজ বিতর্কে সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল বলে মনে করছেন অনেকেই।
