বিবিপি নিউজ: দেশজুড়ে করোনা মোকাবিলায় চলেছেল লকডাউন। এই লকডাউনের মাঝেই মেয়ের মরদেহ নিয়ে ৫ দিন আকড়ে ধরে রাখলেন মা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘরিয়া থানার বিএন ঘোষাল রোডের এক বাড়িতে। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হতেই, তাঁরাই পুলিশে খবর দেয়। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন বিএন ঘোষাল রোডের বাড়িতে মা ও মেয়ে বাস করতেন। এদিন ওই বাড়ির পাশের ঘরের এক মহিলা মৃতের মায়ের কাছে তাদের খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলেন। বেশ কয়েকদিন মা মেয়েকে বাইরে তেমন দেখা যাচ্ছিল না। বাড়তি খোঁজখবর নিতেই মৃতের মা জানান তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করেন সৎকার কখন হয়েছে। এরপরেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মেয়ে কয়েদিন আগেই মৃত্যু হয়েছে। দেহ ঘরের মধ্যেই রয়েছে। ওই মহিলার প্রতিবেশীদের খবর দিলে প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখেন শোওয়ার ঘরে বিছানার উপর পড়ে রয়েছে মৃতদেহ। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় বেলঘরিয়া থানায়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় ময়নাতদন্তের জন্য। পুলিশ সূত্রে খবর, দেহে ব্যাপক ভাবে পচন ধরে গিয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অন্তত ৭ দিন আগে মৃ্ত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে তার মা দাবি করেছেন, মেয়ের মৃত্যু হয়েছে পাঁচ দিন আগে।
জানা গেছে ওই মহিলার নাম জয়া ভট্টাচার্য্য(৬০) ও মৃত মেয়ের নাম পারমিতা ভট্টাচার্য (৩৭)। জয়া দেবীর স্বামী শ্যামল ভট্টাচার্য একবছর আগে মৃত্যু হয়েছে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী ছিলেন। স্থানীয়রা জানান পাড়ায় কারও সঙ্গে মেলামেশা ছিল না তাঁদের। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল না। পুলিশের বার বার জিজ্ঞাসা করা সত্ত্বেও কী ভাবে পারমিতার মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে মুখ খোলেননি জয়াদেবী। দেহে প্রাথমিক ভাবে কোনও আঘাতের চিহ্ন বা অস্বাভাকিতা পাননি তদন্তকারীরা। তবে জেরায় জয়াদেবী পুলিশকে জানিয়েছেন, পারমিতা অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা পাড়ায়।
