বিবিপি নিউজ,মাসুদূর রহমান: বাংলা ও বাঙালির আবেগ বসন্তোৎসব থেকে শুরু করে চড়ক নববর্ষ এবং সদ্য সমাপ্ত হওয়া মুসলমান সম্প্রদায়ের ৩০দিনের রোজা শেষে খুশির ইদ্ সবই করোনার সর্বগ্রাসী মুখগহ্বর গ্রাস করেছে।এবার হাতে গোনা মাত্র একটি দিন বাদ দিলেই বাঙালি জামাইদের ৩৪৬দিনের অপেক্ষা শেষে জামাইষষ্ঠী,তাও মাটি হতে বসেছে।জামাইষষ্ঠী পালনের যদিওবা একটা আশার ক্ষীণ আলোর দিশার দেখা মিলেছিল সেটাও এবারের মতো অন্তত স্থগিত হয়ে গেল।একটু বিশ্লেষণ করে বললে বলতে হয়,করোনার দাপট যেই না একটু স্থিতিশীল হয়েছে আমনি সরকারের ঘোষণা করা পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে আসবে, ব্যাস যেমনটা বিশেষজ্ঞরা ভয় করেছিল ঠিক তেমন টাই হল।পরিযায়ী শ্রমিকদের ঢোকার শুরু হতেই অমনি তরতরিয়ে করোনা সংক্রমণের পারদও উর্ধমুখী।কিন্তু তারাই বা যায় কোথায় বাপু।এরই সাথে সাথে বাংলা কাঁপাতে এলো মহাপ্রলয় ঘুর্ণিঝড় 'আমফান'।সেতো একেবারে সবকিছুকেই খান খান করে দিয়ে চলে গেল।সে তো আর জানেনা যে এমন সময় বাংলায় জামাইষষ্ঠী আছে।সে ব্যাটা নির্দয় হৃদয়ে ভোজন রসিক জামাইদের পাতের কলাটা আমটা লিচু টার গাছ গুলির গুষ্ঠির ষষ্ঠী পুজো করে ছেড়েছে।তাই এবারের মতো শাশুড়ির আদর মাখানো হাতে জামাইদের খই দই দিয়ে ফলা্র খাওয়া হলো না।আহারে বেচারা জামাই বাবাজি!
লকডাউনের বাজারে মন্দা অর্থনীতি।তাই পকেট গড়ের মাঠ সকলের।শ্বশুরকুল কি বলছেন?তাঁরা কি এবার জামাইদের হাত থেকে নিস্কৃতি পেলেন?বিবিপি নিউজের সাংবাদিক বেড়িয়ে ছিল তারই খবর সংগ্রহ করতে। কেউ বলেছেন,'পরিস্থিতি হয়তো খারাপ কিন্তু মেয়ে জামাই নাতি নাতনি বাড়িতে এলে আনন্দে সময়টা কেটে যায়, ভালোও লাগে।'আবার কেউ বলেছেন,'যেহেতু এই মুহূর্তটা খুব অস্থিরতায় কাটছে।তাই এবারের মতো বিপদের সামনাসামনি না হওয়াই ভালো।পরের বারে পুশিয়ে নেওয়া যাবে।'এবার আসা যাক এই অনুষ্ঠানের মূল হোতাদের কাছে।তাঁদের কেউ বলেছেন,'কয়েক বাব তো জামাইষষ্ঠী খেয়েছি।এবার না হয় নাই গেলাম ,বিপদের ঝুঁকি আছে।'কিন্তু মুসকিলে পড়েছে সদ্য বিবাহিতরা অর্থাৎ কিনা যাঁদের এক বছর ও পূর্ণ হয়নি।একে তো তাঁরা নতুন জামাই,তার ওপর প্রথম, সেটাও হল মিস্।
