বিবিপি নিউজ: ল্যাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রাম কঙ্গো মিরাডর। হ্রদের ধারের এই গ্রামটি একসময় মানুষের বসবাসের জন্য আদর্শ স্থান ছিল। শান্ত জলের ধারে নিরিবিলিতে কাটছিল গ্রামবাসীর জীবন। তবে হঠাৎই রূপ পরিবর্তন হয়ে যায় সুন্দর এই গ্রামের। সবুজ গ্রামটি ভরে যায় কাদামাটিতে। আর ক্রমেই সেই কাদামাটিতে তলিয়ে যেতে থাকে সেটি। ফলে নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে শুরু করে বাসিন্দারাও।
কঙ্গো মিরাডরে এখন মাত্র ১০টি পরিবার বাস করে। গ্রামটির যে ক্লিনিকে এক সময় ৭০০ বাসিন্দাকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো, কয়েকটি খুঁটি ছাড়া এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। অনেক বাড়ি লুট হয়েছে। মূল্যবান কিছুই নেই সেসব বাড়িতে। দরজা, জানালা এমনকি পানির কল, পাইপ পর্যন্ত নিয়ে গেছে।
জানা যায়, নিকটবর্তী কাতাতুম্বা নদীর স্রোতের সঙ্গে বয়ে আসা কাদামাটিতে ঢাকা পড়ছে গ্রামটি। যার ফলে তলিয়ে যাওয়া ছাড়াও দেখা দিয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট।
নদীটির উৎপত্তি পাশের দেশ কলম্বিয়ায়। কাতাতুম্বা ভেনেজুয়েলায় এসে লাতিন আমেরিকার অন্যতম বড় হ্রদ মারাকাইবোতে মিলেছে। বিগত বছরগুলোতে নদীটির গতিপথ কয়েকবার বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর স্রোতের সঙ্গে এসেছে কাদামাটি, উদ্ভিজ্জ জীব ও গাছের শিকড়। গ্রামের ধারের হ্রদেও এসে জমা হয়েছে কাদামাটি ও আবর্জনার স্তূপ।
কঙ্গো মিরাডরের বাসিন্দা ল্যামেন্টস ইউক্লিডস ভিলাসমিল। তিনি বলেন, এক সময় যে হ্রদ ছিল মাছে ভরপুর, তা এখন আগাছায় ভরা।
অনেকের ধারণা, কঙ্গো মিরাডর গ্রামের ধ্বংসের শুরুটা ২০১৩ সালে। সে সময় গ্রামের হ্রদে ছোট ছোট কাদামাটিতে ভরা দ্বীপ জেগে ওঠে। ড্রোন ক্যামেরায় তোলা ছবিতে কঙ্গো মিরাডরকে সবুজ দেখালেও গ্রামটি তেমন নেই। গ্রামটি এখন কাদা আর আবর্জনায় ভরা।
কঙ্গো মিরাডর যারা ছেড়েছেন, তাদের একজন ৫৯ বছর বয়সী জেনেথ দিয়াজ। এখন তিনি পুয়ের্তো কোঞ্চার বাসিন্দা। কঙ্গো মিরাডর থেকে সেখানে নৌকায় যেতে সময় লাগে তিন ঘণ্টা। জেনেথ দিয়াজ বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিনগুলোর মধ্যে একটি ২০১৬ সালের ১ জুন।’ জেনেথ দিয়াজ বলেন, কঙ্গো মিরাডর তার কাছে ছিল ‘ছোট ভেনিস’। সেখানে সবাই মিলে বড় পরিবার হিসেবে বসবাস করতেন। কিন্তু বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পরিবার নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে জেনেথ দিয়াজকে। গ্রাম ছাড়ার কিছুদিন পর তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে।
তবে এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাস্তুভিটা ছাড়েনি ৬২ বছর বয়সী ডগলাস ক্যামারিলো। কঠোর পরিশ্রম করে দুই সপ্তাহ ধরে কাদামাটি সরিয়ে মাত্র ১৩০ মিটারের যাতায়াতের একটি পথ তৈরি করেছেন। এই পথ দিয়েই নৌকায় যাতায়াত করতে পারেন তিনি ও তার প্রতিবেশীরা। তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগপর্যন্ত আমি আমার এই গ্রাম ছেড়ে কোথাও যাব না। আর যত দিন আমি বেঁচে থাকব, আমার গ্রামকে শেষ হতে দেব না।’
