বিবিপি নিউজ নেটওয়ার্কস: ভারতের ইতিহাসে ফের ন্যায়ের বিচার পেল। আইন সবার জন্য সমান তা আবার প্রমান করলেন ভারতীয় আদালত। ২৯ বছর আগে পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় বরখাস্ত আইপিএস কর্মকর্তা সঞ্জীব ভাটকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক রায় দিলেন গুজরাটের জামনগর আদালত।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে জামনগরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পান সঞ্জীব ভাট। মামলা সূত্রে জানা যায়, জামনগরের যোধপুর এলাকায় দাঙ্গার সময় সঞ্জীব ভাট প্রায় ১৫০ জনকে আটক করেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রভুদাশ ভিশানি নামের একজন ব্যক্তি মুক্তির পরে হাসপাতালে মারা যান।
প্রভুদাশের ভাই এই ঘটনায় আইপিএস কর্মকর্তা সঞ্জীব ভাট ও ছয় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। তার দাবি কারাগারে বন্দি অবস্থায় নির্যাতন করার কারণেই প্রভুদাশের মৃত্যু হয়েছে। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি তারা দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানান। হেফাজতে নির্যাতনের কারণে প্রভুদাশের মৃত্যু হয়নি বলেও দাবি করেন।
কিন্তু সঞ্জীব ভাট এই মামলায় অতিরিক্ত ১১ জনের সাক্ষ্য যাচাই–বাছাই করার জন্য আবেদন জানান। তিনি আবেদনে বলেন, এই মামলায় সঠিক ও ন্যায়সংগত রায়ের জন্য ১১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আদালত এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
আদালতের অবকাশের আগে করা এই আবেদনের জোরালো বিরোধিতা করে গুজরাট পুলিশ। পুলিশের দাবি মামলার রায় বিলম্বিত করতেই এই আবেদন করা হয়েছে।
এই ঘটনায় পারভীন সিং ঝালা নামের আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সঞ্জীব ভাট ভারতীয় পুলিশ বাহিনীর ১৯৮৮ সালের ব্যাচ সদস্য। অনুমতি ছাড়া দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও পুলিশের গাড়ির অপব্যবহারের কারণে ২০১১ সালে ভাটকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ২০১৫ সালে তাঁকে পুরোপুরি বরখাস্ত করা হয়।
