অফিসের কাজের ফাঁকে, একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন! দুইটি ঐতিহাসিক স্থান - BBP NEWS

Breaking

বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯

অফিসের কাজের ফাঁকে, একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন! দুইটি ঐতিহাসিক স্থান

বিবিপি নিউজ,সৌগত:  অফিসে প্রচন্ড কাজের চাপ? অফিস থেকে একদম ছুটি পাচ্ছেন না?
এদিকে আপনি ঘুরতে প্রচন্ড ভালোবাসেন!!
সপ্তাহে যে কোনো একটা দিন ছুটি আশাকরি সবাই পাই। তাহলে চলুন ওই একটা দিনে ঘুরে আসা যাক পশ্চিমবঙ্গের দুই ঐতিহাসিক স্থান মোগলমারি এবং কুরুম্বেরা দুর্গ থেকে।

এক ঝলকে দুই ঐতিহাসিক স্থান :

•পুরাতাত্ত্বিকদের মতে, মোগলমারি পশ্চিমবঙ্গের সর্ববৃহৎ বৌদ্ধবিহার। নালন্দার সমসাময়িক  !

•কথিত আছে মোগলরা একসময় এই পথ মাড়িয়ে যেতো, তাই এই জায়গার নাম মোগলমারি।

•কথিত আছে মোগলমারি বৌদ্ধবিহারে ছিল বুদ্ধদেবের দাঁত।

• চিনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে এখানে এসেছিলেন, তিনি তার ‘সি-ইউ-কি’ভ্রমণ বৃত্তান্তে উল্লেখ করেছেন এই বৌদ্ধবিহারের কথা।

•পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর ৭ মার্চ ২০১৩ মোগলমারি ‘সখীসেনা ঢিবি’-কে রাজ্য সংরক্ষিত সৌধের মর্যাদা প্রদান করে।

• বর্তমানে মোগলমারি বৌদ্ধ বিহার পঃ বঃ সরকারের ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস বইয়ের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।

• ৫৫০ বছর আগের তৈরি বিশাল এক আয়তাকার ক্ষেত্র এবং তার চারপাশে ঘিরে টানা ৬৯ টি থাম বিশিষ্ট লম্বা পরিক্রমা বা বারান্দা সমেত মাকড়া পাথরের তৈরি দুর্গ হোলো কুরুম্বেরা।

• কথিত আছে রামচন্দ্র নাকি বনবাসের সময় ভাই লক্ষ্মণ ও স্ত্রী সীতার সঙ্গে এখানে আসেন। তারজন্য রাতারাতি এই দূর্গ টি তৈরি করা হয়েছিল।

কিভাবে যাবেন : 

সড়ক পথ  :
কলকাতা থেকে সড়ক পথে অতি সহজেই পৌঁছান যায় মোগলমারি। বিদ্যাসাগর সেতু থেকে মোগলমারির দূরত্ব প্রায় ১৬৩ কি.মি.। সময় লাগে ঘণ্টা তিনেক। বিদ্যাসাগর সেতু হয়ে প্রবেশ করতে হবে কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে। কোনা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে বামদিকে মোড় নিয়ে ৬ নং জাতীয় সড়কে প্রবেশ করতে হবে। যাত্রাপথে ধূলাগড়ি, উলুবেড়িয়া, কোলাঘাট, দেউলিয়া, মেছোগ্রাম, ডেবরা পার হয়ে কিছু দূর অতিক্রম করার পর মাদপুরের কাছে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক দু-ভাগে বিভক্ত হয়েছে। প্রথমটি উড়ালপুলের উপর দিয়ে খড়্গপুর হয়ে মুম্বাইয়ের দিকে গিয়েছে। অন্যটি বাঁদিকে বেঁকে গিয়ে ৬০নম্বর জাতীয় সড়ক বা এশিয়ান হাইওয়ে ৪৫-এ গিয়ে মিশেছে। এই পথ ধরে ৫২ কিলোমিটার অতিক্রম করলেই পৌঁছানো যাবে মোগলমারি বাসস্ট্যান্ড।

কলকাতা থেকে সড়কপথে মোগলমারি যেতে হলে ধর্মতলা থেকে বাস ধরে খড়গপুর (১৬৩ কি.মি.) পৌছেও মোগলমারি যেতে পারেন।

বাসস্ট্যান্ড থেকে ডানদিকে একটি রাস্তা মোগলমারি গ্রামে প্রবেশ করেছে। সেই রাস্তা ধরে মাত্র ৪০০ মিটার এগোলেই মোগলমারি বৌদ্ধ মহাবিহার।

মোগলমারি বাসস্ট্যান্ড থেকে ১০টাকা দিয়ে বাস ধরে ১৫-২০ মিনিটে (১২.০৭ কি.মি.) চলে আসুন বেলদা কেশিয়ারি মোর। সেখান থেকে ১০ টাকা ভারা দিয়ে বাসে করে (১২ কি.মি.) চলে আসুন কুকাই। কুকাই থেকে টোটো ধরে (১০ টাকা ভারা) ১৫ মিনিটে পৌছেযাবেন (৩ কি.মি.) কুরুম্বেরা দূর্গের গেটে।

রেল পথ :
হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনেও পৌঁছানো যাবে মোগলমারিতে। খড়গপুর এবং বেলদা দুটো স্টেশনে নেমেই পৌছানো যাবে মোগলমারি।
হাওড়া স্টেশনের ২১ নং প্লাটফর্ম থেকে সকাল ৬.০০টায় ছাড়ে (ট্রেন নং ১২৮২১) হাওড়া পুরী ধৌলি এক্সপ্রেস, যা (১১৮ কি.মি) খড়গপুর পৌছায় সকাল ৭.৪০ এবং বেলদা পৌছায় সকাল ৮.১৫।

খড়গপুর স্টেশন থেকে বেড়িয়ে বাসস্ট্যান্ড থেকে দাঁতনগামী নিত্য যাতায়াতের বাসে চেপে (ভাড়া ৪০ টাকা) /(অথবা গাড়ি ভাড়া করে, ভাড়া ১০০০-১২০০ টাকা) ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিটে (৭০ কি.মি.) পৌছানো যাবে মোগলমারি প্রন্তস্থলে।
অথবা বেলদা স্টেশন থেকে বেড়িয়ে বাসস্ট্যান্ড থেকে নিত্য যাতায়াতের বাসে করে (বা গাড়ি ভাড়া করে) ১০ কিলোমিটার রাস্তা (ভাড়া ১০ টাকা) অতিক্রম করে অতি সহজেই পৌঁছান যাবে মোগলমারি প্রত্নস্থলে।

একই দিনে ফিরতে চাইলে ঠিক বিকাল ৫টা ২৫ মিনিটে (ট্রেন নম্বর ১২৮২২) ধৌলি এক্সপ্রেসে চাপলেই রাত্রি ৮টা ১৫ মিনিটে হাওড়া স্টেশন।

লোকাল ট্রেনে হাওড়া থেকে খড়্গপুর, খড়্গপুর থেকে ওড়িশাগামী ট্রেনগুলিতে চেপে নামতে হবে
দাঁতনের আগে নেকুড়সেনী স্টেশনে। নেকুড়সেনী থেকে মোগলমারির দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটার। নেকুড়সেনী থেকে যাতায়াতের একটু অসুবিধা আছে। সময়মতো টোটো মেলে না। ভাড়াও একটু বেশি।

Pages