করোনার থাবা থেকে ছেলেকে বাঁচাতে ১,৪০০ কিমি পথ স্কুটি চালিয়ে পাড়ি দিলেন "মা"! - BBP NEWS

Breaking

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০

করোনার থাবা থেকে ছেলেকে বাঁচাতে ১,৪০০ কিমি পথ স্কুটি চালিয়ে পাড়ি দিলেন "মা"!

বিবিপি নিউজ: মা তো মা-ই হয়। তার কোনো বিকল্প নেই। কখনও নিজে আধপেটা খেয়ে সন্তানদের পেট ভরে খাওয়ান। মা ডাক্তার থেকে দর্জি সবকিছুই। সেই মা-ই দীর্ঘ ১,৪০০ কিমি পথ স্কুটি চালিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করলেন করোনার হটস্পট থেকে।

জানা গেছে, লকডাউনের আগে  অন্ধ্র প্রদেশের নেলোর জেলায় রেহমতাবাদ শহরে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তেলেঙ্গানার বোধান শহরের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মহম্মদ নিজামউদ্দিন। ২৩ মার্চ ফেরার রেলটিকিট কাটা থাকলেও দেশজুড়ে লকডাউন জারি হওয়ায়  বন্ধুর বাড়িতেই আটকে পড়েন। এরপরেই মরন ভাইরাস নেলোরে  সংক্রমণের হার তীব্র হতে শুরু করে। এরপরেই উদ্বেগে অস্থির হন পেশায় স্কুল শিক্ষিকা নিজামউদ্দিনের মা।৫০ বছর বয়সী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া বেগম জানান ‌ফোনে ছেলের সঙ্গে কথোপকথনে জানতে পারেন, চেষ্টা করেও তেলঙ্গানা ফিরতে পারছেন না নিজামউদ্দিন। এরপরেই  সাহায্য চেয়ে বোধানের সহকারী পুলিশ কমিশনার ভি জয়পাল রেড্ডির দ্বারস্থ হন রাজিয়া। পুলিশকর্তা তাঁকে অনেক বুঝিয়ে নিরস্ত করার চেষ্টা করলেও আটকাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের ‌অনুমতিপত্র নিয়ে পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষিকা। ঠিক করেন ১,৪০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে আনবেন।

 ৬ এপ্রিল ভোরে রওনা দেন ওই শিক্ষিকা। রাস্তায় নানান জায়গায় তাঁকে পুলিশের ব্যারিকেডে থামতে হলেও অনুমতিপত্র দেখিয়ে ছাড়া পান রাজিয়া। পুলিশকর্মীরা তাঁর মনোবল ও সাহস দেখে অবাক হন। এর আগে স্কুটি চালিয়ে কখনও শহরের বাইরে যাননি রাজিয়া। কিন্তু অসম্ভব মনের জোর কাজে লাগিয়ে গুগল ম্যাপ-এর সাহায্যে পরের দিন সকালে তিনি রেহমতাবাদ পৌঁছে যান। পথে তেল ভরতে অল্প বিশ্রাম নেন কয়েক বার।৭ এপ্রিলই দুপুরে ফের ছেলেকে নিয়ে নেলোর ছাড়েন রাজিয়া। ৮ এপ্রিল সকালে পৌঁছে যান নিজের বাড়ি। দীর্ঘ পথ স্কুটি চালিয়ে প্রচণ্ড ক্লান্ত মা জানান, ছেলেকে উদ্ধার করার তীব্র বাসনাই তাঁকে এই অসম সাহসিকতায় উদ্বুদ্ধ করেছে।মায়ের অসামান্য মনোবল ও সাহসিকতায় মুগ্ধ ছেলে নিজামউদ্দিন। অল্প বয়সে বাবাকে হারালেও মা-ই যে তাঁকে বরাবর আগলে রেখে সে অভাব বুঝতে দেননি, তা স্বীকার করেছেন তিনি। 

Pages