বিবিপি নিউজ: করোনা ভাইরাস অতিমারিতে থমকে গিয়েছে জনজীবন। ঘরবন্দী অবস্থায় কাটাচ্ছেন গোটা বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ। রাস্তার নেমে এসেছে পশু পাখি থেকে বন্য জন্তুরা। নির্দিধায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। নদীতে ফিরেছে হারিয়ে যাওয়া মাছ। প্রকৃতি বদলে দিয়েছে।
বন্ধ রয়েছে দেশের বেশিরভাগ কলকারখানাই। কমেছে দূষণের হারও। লকডাউনে ‘কার্বন ব্রিফ’ সংস্থার সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণাপত্র বিস্মিত করেছে সকলকে। ভারতে কার্বন নিঃসরণের চিত্ররেখা নিম্নমুখী। দূষণের হার এত বেশি কমতে দেখা যায়নি গত ৩৭ বছরে।কার্বন ব্রিফ সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে গত বছর থেকেই ভারতে উল্লেখযোগ্য ভাবে কমতে শুরু করে কার্বন নিঃসরণ। মার্চের শুরুতে গত বছরের তুলনায় কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পায় ১৫%। কিন্তু নাটকীয়ভাবে এই হারের পরিবর্তন হয় এপ্রিল মাসে। নিঃসরণের মাত্রা কমে আসে ৩০ শতাংশে। ভারত তাপবিদ্যুতের বদলে নবীনকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছিল গত বছর থেকেই। তার জন্যই এই ফলাফল এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে লকডাউনের পর এপ্রিলের প্রথম তিন সপ্তাহে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে উৎপাদনের হার কমেছে ৩১ শতাংশ। সেই সঙ্গে চাহিদা কমেছে পেট্রোলিয়াম তেলেরও। দেখা যাচ্ছে, লকডাউনে সৌরবিদ্যুৎসহ অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহারও বেড়েছে দেশে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এই নিম্নমুখী গ্রাফ স্থায়ী নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারকেই ভূমিকা নিতে হবে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার জন্য।
