বিবিপি নিউজ: লকডাউনের মধ্যে তেলেনিপাড়ার হিংসা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব রুখতে হুগলি জেলার দুই মহাকুমা অঞ্চলে বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা। এর জেরে অস্বস্তিতে পড়ছে চন্দননগর, শ্রীরামপুর-সহ হুগলির ১১টি থানা এলাকার বাসিন্দারা। ফেক নিউজ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব রুখতে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে চন্দননগর এবং শ্রীরামপুর মহকুমায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করেন জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও। আগামী ১৭ মে পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে।
ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের ফলে প্রবল সমস্যায় সাধারণ মানুষ। কারণ, লকডাউনে কাজ কিংবা পড়াশুনো সবক্ষেত্রেই ভরসা ইন্টারনেট। প্রবল সমস্যায় পড়েছেন যারা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করছেন। বহু মানুষের অফিসের কাজ করবেন বলে ল্যাপটপের সামনে অপেক্ষারত। কিন্তু নেই ইন্টারনেট! একই অবস্থা পড়ুয়াদেরও। অনলাইনে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে পড়ুয়ারা। ১৭ তারিখ পর্যন্ত কী করে এভাবে কাজ চলবে তা ভেবেই কুলকিনারা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধে থেকে দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে গন্ডগোলে উত্তপ্ত ভদ্রেশ্বরের তেলেনিপাড়া। বিভিন্ন বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ও পাথর ছোঁড়া পাশাপাশি চলেছে ব্যাপক বোমাবাজি। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও সোনার দোকানে লুটপাট চালানো বলে অভিযোগ ঘটে। সোমবার সকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে শুরু বিজেপি ও তৃণমূলের তরজা। বিজেপির পক্ষ থেকে স্থানীয় এক তৃণমূল কাউন্সিলরের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখতে চাইলে স্থানীয় বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে বাধা দেয় পুলিশ। এর জেরে নতুন করে উত্তেজনাও ছড়ায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। দফায় দফায় বোমাবাজি, ভাঙচুর চলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াতে শুরু করে গুজব। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার হুগলির উত্তরপাড়া থেকে বৈদ্যবাটি, চণ্ডীতলা থেকে জাঙ্গিপাড়া, ওদিকে গ্রামীণ এলাকায় হরিপাল, সিঙ্গুর, তারকেশ্বর-সহ বিভিন্ন এলাকায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা।
