বিবিপি নিউজ: অভিনব উদ্যোগ।বাংলার প্রাচীন সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে জামাই নিজেই নিজের বাড়িতে পালন করলেন জামাইষষ্ঠী।আর সেই খবর শুধুমাত্র বিবিপি নিউজ পত্রিকায় প্রকাশিত হলো।সাক্ষী থাকলো বিবিপি নিউজের ক্যামেরা।যখন করোনার নাগপাশে অর্থনীতি তলানিতে, নিত্যদিন করোনা আক্রান্ত সহ মৃত্যু যখন রেকর্ড ভাঙার খেলাতে মসগুল,আমফান এসে যখন বঙ্গবাসীর মনের কফিনে শেষ পেরেকটা সজোরে পুঁতে দিলো, সাথে সাথেই আপামর বঙ্গের জনজীবনেরও হলো সলিল সমাধি।শুধু তাই নয় আমফান বিদায় নেওয়ার মুহূর্ত থেকে আজও পর্যন্ত আকাশের মুখ ভার।বুধবার বিকেল থেকেই শুরু হয়েছিল আমফান-২ এর দাপট।তারপর সারা রাত হয় অঝোর ধারায় বৃষ্টি।এই রকম পরিস্থিতিকে সঙ্গী করে বৃহস্পতিবার পালিত হলো জামাইষষ্ঠী।থুড়ি বলা ভালো পালিত হতো জামাইষষ্ঠী। কেননা সেই উৎসবকেও করোনা গ্রাস করে নিয়েছে।
করোনার জন্য লকডাউন, লকডাউন এর জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি বাড়িতে সাত জনের বেশি একসাথে সমবেত না হওয়া এই সবকিছু কেই মাথায় রেখে তারই মধ্যে অভিনব উদ্যোগে নিজের বাড়িতে নিজেই পালন করলেন জামাইষষ্ঠী।ঘটনাটি ঘটেছে হুগলি জেলার আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের পুড়শুড়া বিধানসভার অন্তর্গত হরিহর গ্রামে। ঘটনাটি যিনি ঘটিয়েছেন তিনি হলেন পলাশ সামন্ত। জামাইষষ্ঠীর আগের দিন ষষ্ঠীর সমস্ত উপকরণ শ্বশুরমশাই নিজে হাতে করোনা ও লকডাউনের সমস্ত বিধিকে মান্যতা দিয়ে গাড়িতে করে মাঝ রাস্তায় জামাইয়ের হাতে দিয়ে গেলেন। পরের দিন অর্থাৎ জামাইষষ্ঠীর দিন সাতসকালেই জামাই ধুতি পাঞ্জাবি পরিহিত হয়ে সুন্দর আসনে উপবিষ্ট হলেন। মেয়ের হাতে নিলেন দই চন্দনের ফোঁটা। সমস্ত উপকরণ নিজের হাতে সাজিয়ে দিলেন তাঁর স্ত্রী এবং সেই উপকরণ নিজের বাবার উদ্দেশ্যে দিলেন মেয়ে। বেজে উঠল মঙ্গল শঙ্খধ্বনিও উলুধ্বনি। তারপরেই লাইভ ফোন গেল শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে। প্রথমে সমগ্ৰ পরিকল্পনাটি মোবাইলে দেখেই চমকে উঠলেন শাশুড়িমা।ফোনেই দিলেন দীর্ঘজীবী হওয়ার আশীর্বাদ। কথাগুলো বলতে বলতে কেঁপে উঠল গলাটা,চোখের কোনে জমে উঠল জল। পাশে বসিয়ে জামাইকে একটা মাত্র দিনই খাওয়ানোর সাদ তাও কেড়ে নিল করোনা,কথা গুলো শাশুড়ি বললেন আক্ষেপ উক্তির সুরে।
পাশাপাশি বিবিপি নিউজের সাংবাদিক জামাইয়ের সাথে কথা বলতে তিনি জানালেন, 'বাংলার প্রাচীন সংস্কৃতি করোনা ভাইরাস কি গ্রাস করতে পারে? এবছর না হয় আমি নিজেই নিজের জামাইষষ্ঠী করলাম ও খেলাম। এতে আর যাই হোক অন্তত এবারের মত বাংলার প্রাচীন সংস্কৃতিটা বেঁচে রইল।'
