বিষ্ফোরক রিপোর্ট! প্রতি ৯ জন করোনায় আক্রান্তের মধ্যে ১টি শিশু - BBP NEWS

Breaking

শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০

বিষ্ফোরক রিপোর্ট! প্রতি ৯ জন করোনায় আক্রান্তের মধ্যে ১টি শিশু



বিবিপি নিউজ: মারন ভাইরাস করোনা মহামারী অনিয়ন্ত্রিতভাবে দ্বিতীয় বছরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। বিশ্ব শিশু দিবস সামনে রেখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্ত প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন ২০ বছরের কম বয়সি শিশু ও কিশোর-কিশোরী।  

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) ইউনিসেফ অফিস জানায়, ‘অ্যাভারটিং এ লস্ট কোভিড জেনারেশনে’ মহামারী অব্যাহত থাকায় শিশুদের ক্ষেত্রে এর ভয়াবহ ও ক্রমবর্ধমান পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এতে উঠে এসেছে যে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে হালকা উপসর্গ দেখা গেলেও সংক্রমণের হার বাড়ছে এবং দীর্ঘ মেয়াদে শিশু ও তরুণদের পুরো একটি প্রজন্মের শিক্ষা, পুষ্টি ও সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর প্রভাব জীবন বদলে দিতে পারে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, করোনা  মহামারীর  পুরো সময়জুড়ে অব্যাহতভাবে একটি ধারণা চলে আসছে যে, এই রোগে শিশুদের তেমন ক্ষতি হয় না। তবে এটি মোটেও সত্য নয়। শিশুরা এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং রোগের বিস্তার ঘটাতে পারে। দারিদ্র্যের হার বাড়ায় শিশুদের ক্ষেত্রে এটা বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এ সংকট যত দীর্ঘ হবে, শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর প্রভাব তত গভীর হবে। পুরো একটি প্রজন্মের ভবিষ্যত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

গত ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ৮৭টি দেশের বয়সভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সংক্রমিত প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন ২০ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরী- যা  দেশগুলোতে মোট আক্রান্ত ২ কোটি ৫৭ লাখ মানুষের ১১ শতাংশ। এই সংকট কীভাবে শিশুদের জীবনকে প্রভাবিত করে এবং এটি মোকাবিলার উপায় কী, তা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য সংক্রমণ, মৃত্যু ও শনাক্তকরণ পরীক্ষার আরও নির্ভরযোগ্য বয়সভিত্তিক তথ্য প্রয়োজন বলে এতে বলা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, শিশুরা একে অন্যের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। কমিউনিটিতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে স্কুলগুলোই একমাত্র চালিকাশক্তি নয় এবং শিশুরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্কুলের বাইরে থেকেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

১৩৫টি দেশে নারী ও শিশুদের পুষ্টি সেবার আওতা ৪০ শতাংশ কমে গেছে। ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ২৬ কোটি ৫০ লাখ শিশু স্কুলের খাবার বঞ্চিত ছিল। ৫ বছরের কম বয়সি ২৫ কোটির বেশি শিশু ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট কর্মসূচির জীবনরক্ষামূলক সুবিধা নেওয়া থেকে বাদ পড়তে পারে। ৬৫টি দেশ জানিয়েছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সমাজকর্মীদের বাড়ি পরিদর্শন কমেছে। এ ছাড়াও প্রতিবেদনে আরো বেশ কিছু আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৩০টি দেশজুড়ে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৫৭ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ৩৩ শতাংশ। আগামী ১২ মাসে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় এবং ক্রমবর্ধমান অপুষ্টির সমস্যাসহ আনুমানিক ২০ লাখ অতিরিক্ত শিশুর মৃত্যু হতে পারে এবং ২ লাখ অতিরিক্ত মৃত শিশুর জন্মের আশঙ্কা করা হচ্ছে।  

Pages