বিবিপি নিউজ: প্রায় একমাস পর জামিনে মুক্তি পেলেন শাহরুখ খানের পুত্র আরিয়ান খান। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত আরও দু’জন আরবাজ মার্চেন্ট ও মুনমুন ধামেচাকে জামিনে মুক্ত করেছে মুম্বই হাই কোর্ট। বিগত ২২ দিন ধরে মুম্বইয়ের আর্থার রোডের জেলই ছিল আরিয়ান খানের ঠিকানা।
অবশেষে নিজের বাড়ি মন্নতে ফিরছেন তিনি। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও সেশন কোর্টে খারিজ হয়েছিল ক্রুজ ড্রাগ পার্টি কাণ্ডে গ্রেফতার আরিয়ানের জামিন, কিন্তু হাই কোর্টে স্বস্তি পেল তারকা পুত্র।
আজ বৃহস্পতিবার বম্বে হাই কোর্ট জামিন মঞ্জুর করেছে মাদক কাণ্ডে এনসিবি-র হাতে গ্রেফতার শাহরুখ খান পুত্রের। খবর সামনে আসবার পর থেকেই খুশির জোয়ার শাহরুখ ভক্তদের মধ্যে। নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ২৬ দিন পর স্বস্তিতে শাহরুখ-গৌরী।
তারকা -পুত্রের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ড্রাগ নেক্সাসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ এনেছে এনসিবি, পাশাপাশি গত তিন বছর ধরে নিয়মিত নিষিদ্ধ মাদক সেবেনের অভিযোগও এনেছে।
আরিয়ানের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনের ২৯ নম্বর (ষড়যন্ত্র) যোগ করা নিয়ে তুমুল বিতণ্ডা হয় হাই কোর্টে। এনসিবির তরফে শুক্রবার আরিয়ানের আইনজীবীদের তর্কের পালটা জবাব দেওয়া হয়। তবে শেষেমষে দু-পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে আরিয়ান খান, আরবাজ মার্চেন্ট ও মুনমুন ধামেচার জামিন মঞ্জুর করেন বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি নীতিন সাম্বরে।
আরিয়ানের কৌঁসুলি মুকুল রোহাতগি সওয়াল করেন, সংবিধানের ২২ নম্বর ধারা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ সিআরপিসি-র ৫০ নম্বর ধারার থেকে। এনসিবির গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আদালতকে তিনি বলেন, কোনও ব্যক্তিতে গ্রেফতার করা হতে পারে না, গ্রেফতারির সঠিক কারণ না জানিয়ে। আরিয়ানের অ্যারেস্ট মেমো-তে অপরাধমূলক ষড়য়ন্ত্র (এনডিপিস আইনের ২৯ নম্বর ধারা) ছিল না, বলেও তিনি জানান।
আরবাজ মার্চেন্টের কৌঁসুলি তথা আরিয়ানের লিগ্যাল টিমের অংশ অমিত দেশাই বলেন, ‘এনসিবির কাছে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব প্রমাণ করবার জন্য কোনও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট নেই। এবং উদ্ধার করা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটগুলি অনেক পুরনো (২০১৮ সালের), যার জন্য ২রা অক্টোবরের মামলার যোগ থাকতে পারে না।
'আরিয়ানের অ্যারেস্ট মেমো-তে তাঁর থেকে উদ্ধার হওয়া যে সমস্ত জিনিসের তালিকা রয়েছে তা কখনই আমার মক্কেলের কাছে মেলেনি। যে দোষের জন্য সাজা সর্বোচ্চ এক বছর (মাদক সেবন) তার জন্য ২৫ দিন ধরে কাউকে জেলেবন্দি রাখা অনুচিত', কোর্টকে জানান মুকুল রোহাতগি।