বিবিপি নিউজ: অতিমারি উপেক্ষা করেই ভিড় লেগেছিল শহরের অলিগলিতে। হারিয়ে গিয়েছিল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বা সোশ্যাল ডিসটেন্সিং। পুজোয় ঠাকুর দেখার ভিড়ে এক প্রকার পোয়া বারো ভাইরাসের। যেখানে বাঘের ভড় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। এ যেন ঠিক তাই। করোনার বিপদকে ব্যাখ্যা করার জন্য চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞদের একাংশ যে এমন বাঘা রূপকের আশ্রয় নিচ্ছেন, তার কারণ স্পষ্ট।
দেবীপক্ষ শুরুর আগে রাজ্যে সংক্রমণের পজিটিভিটি
পুজো মণ্ডপের বাইরে কোভিড বিধিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়া মানুষের ঢল দেখে চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, "ক্ষিপ্ত বাঘের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে সে কি শিকার ছেড়ে দেবে? তা তো হয় না। ঠিক তেমনই মাস্ক খুলে, দূরত্ব-বিধি শিকেয় তুলে যে-ভিড় প্যান্ডেল হপিংয়ের আনন্দে মাতোয়ারা, তাদের ছেড়ে দেবে না ভাইরাস। সে ওত পেতেই আছে। ফের কোভিড ভাইরাসের আঘাত করার আশঙ্কাই সর্বাধিক। তাতে কেউ হয়তো বেশি জখম হবেন, কেউ কম।" চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, অসতর্কতার মনোভাব অবিলম্বে বদলে ফেলতে না-পারলে সামনের একটি-দু’টি মাস শুধু আমজনতা নয়, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষেও খুব কঠিন সময় হয়ে উঠতে চলেছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সংক্রমণ আচমকা ৭০০-র ঘর থেকে ৫০০-র ঘরে নেমে আসায় উচ্ছ্বাসের বা আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। কারণ, এর মানে এই নয় যে, করোনা সংক্রমণ কমে গিয়েছে। আসলে পুজোর মরসুম এবং করোনা পরীক্ষায় অনীহার কারণেই সংখ্যাটি কম দেখাচ্ছে। রাজ্যে যেখানে দৈনিক পরীক্ষা ৫০ হাজারের ঘরে থাকত, সেটি এই ক’দিনে ২০ বা ১৮ হাজারের ঘরে ঘোরাফেরা করছে। তাতেই অশনি সঙ্কেত স্পষ্ট। এক চিকিৎসক বলেন, "বাড়াবাড়ি না-হলে বোধ হয় এক শ্রেণির মানুষের শিক্ষা হয় না। মৃদু উপসর্গের লোকজন পরীক্ষা করাতে চাইছেন না। তাঁরা নিজেরাই ভেবে নিচ্ছেন, সেটি সাধারণ ঠান্ডা-গরম আবহাওয়ার ফল। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাস আদতে করোনাকে ছড়িয়ে পড়তে বেশি সহযোগিতা করছে।"জনস্বাস্থ্যের দিক থেকেও এ বারের পুজোর ভিড় মারাত্মক ক্ষতি করে দিল বলেই বিশেষজ্ঞদের অভিমত। জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অব ডক্টর্স, ওয়েস্ট বেঙ্গলের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আত্মঘাতী হওয়ার পথ থেকে, প্রিয়জনকে বিপদে ফেলা ও প্রিয়জনকে চিরবিচ্ছেদের পথ দেখানো থেকে মানুষকে বিরত থাকতে হবে। যদিও অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। তবু পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে মানুষকে সংযত হওয়ার ডাক দিচ্ছেন তাঁরা।