বিবিপি নিউজ: গড়িয়াহাট জোড়া খুনে পরিচারিকা মিঠুকে গ্রেফতার করেই খুনের পর্দা ফাঁস করল কলকাতা পুলিশের দুদে কর্তারা। ট্রেনে যাতায়াতের সূত্রে পরিচয় দুষ্কৃতিদের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতিতে খুন করে কাঁকুলিয়ায় কর্পোরেট কর্তা সুবীর চাকি এবং তাঁর গাড়িচালক রবীন মণ্ডলকে।
পুলিশের জেরায় পরিচারিকা মিঠু জানিয়েছে, খুনের আগেরদিন অর্থাত্ শনিবার সমস্ত পরিকল্পনা করে মিঠুর বড় ছেলে ভিকি। মা-কে বলে খুন করে সে টাকা আদায় করবে। ছেলের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায় মা। এরপরই কাজ হাসিল করতে মিঠু-ই ৩ জন লোক জোগাড় করে। তারপর ঘটনার দিন রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদ ট্রেন ধরে ঘটনাস্থল লাগোয়া একটি স্টেশনে পৌঁছয় মিঠু। পরের ট্রেন ধরে ওই স্টেশনে পৌঁছয় ওই ৩ জন। অন্যদিকেও ভিকিও তার কাজের জায়গা থেকে আরও একজনকে জোগাড় করে। এরপরই শুরু হয় 'অপারেশন'। ভিকি সহ মোট ৫ জন চলে যায় 'অপারেশনে'। খুনের উদ্দেশে একটি ছুরিও ভিকি কিনে এনেছিল। ওদিকে মিঠু স্টেশনেই অপেক্ষা করতে থাকে। কাজ হওয়ার পর মাকে ফোন করে ভিকি। খুনের কথাও তখনই জানায় সে। তবে তখন সে মিঠুর সঙ্গে দেখা করেনি। খুনের পর ঘটনাস্থল থেকে মিনিট দশেকের দূরে কাজের জায়গায় ফিরে যায় সে। ফার্ন রোডে একটি জায়গায় নিরাপত্তরক্ষীর কাজ করত ভিকি। পরদিন মা মিঠুকে ফোন করে দেখা করতে ডাকে সে। তখনই নিজের রক্তমাখা জামা সহ ২টি ব্যাগ মায়ের হাতে তুলে দেয় ভিকি। তারপর-ই সে গা ঢাকা দেয়। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের মধ্যে আরও ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ধৃতদের পাথরপ্রতিমা গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার বুড়োবুড়ির হাট এলাকা থেকে জাহির গাজী ও বাপি দাস নামে ২ জনকে আটক করে লালবাজার পুলিশ। যারা দুজনেই ভিকির সহযোগী ছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতায় আনা হচ্ছে। যদিও ভিকি এখনও পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে।