বিবিপি নিউজ: দল রাজ্যে পরাজিত হতেই ইস্তফার ঝড় উঠেছিল। অভিযোগ, ক্ষোভ ছিল দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেকের উপরে। ঠিক যেন একের পর এক চমকপ্রদ রয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। গেরুয়া ঝড়ের রাজ্যের সবুজ শিবির ধরাশায়ী হতেই এ বার দলীয় সাংগঠনিক পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে চিঠি পাঠালো তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের। ‘দল ছেড়ে যাচ্ছি না’ বলে দলকে আশ্বস্ত করেও কাকলির বক্তব্য, ‘অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের অন্যান্য সাংগঠনিক পদ, কমিটি ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছি।’
গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বেসুরো তৃণমূলের একাংশ। তালিকায় আছেন কাকলি ঘোষদস্তিদারও। লোকসভার সচেতকের পদ হারানোর পরে চার দিন আগেই বারাসত জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন কাকলি। তার আগে কাকলির নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবস্থা করে দিয়েছে মোদী সরকার। জোড়াফুল শিবিরের একাংশের পর্যবেক্ষণ, কাকলির বিজেপিতে যাওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তিন জেলা নিয়ে সমন্বয় বৈঠকেও ছিলেন তিনি। যদিও এ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে বলেছিলেন, ‘প্রশাসন সবার, এটা কোনও দলীয় কর্মসূচী নয়।’ তবে এ বার সাংগঠনিক সমস্ত পদ থেকে অব্যাহতি চাইলেন তিনি। একই সঙ্গে সুব্রত বক্সীকে দেওয়া চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপরে অন্য একজন অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা, সহানুভূতি পাওয়া যায় না, সে পদে থাকার মানে হয় না।’
অন্যদিকে এই পরিস্থিতিতে পুরসভার দায়িত্বে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূরণ পদ ছাড়লেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী। এর আগে দেবলীনা বিশ্বাস এই চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। আর এবার পদ ছাড়লেন সুশান্ত ও অরূপরা। জানা গেছে, ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুশান্ত। পাশাপাশি ‘মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির’ পদ ছাড়ছেন অরূপ চক্রবর্তী। এর আগে ৯ নম্বর বোরো চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছিলেন দেবলীনা। তবে সূত্রের খবর, শুধু দেবলীনা-অরূপ কিংবা সুশান্ত নয় আরও অনেকেই পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর।
