২৩,০০০ আধাসেনা ও কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী: CJP-র বিক্ষোভ ঘিরে কড়া পাহারায় দিল্লি - BBP NEWS

Breaking

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

২৩,০০০ আধাসেনা ও কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী: CJP-র বিক্ষোভ ঘিরে কড়া পাহারায় দিল্লি



বিবিপি নিউজ,নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। আগামী ১০ অক্টোবর রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিশাল জমায়েত ও বিক্ষোভ কর্মসূচির কথা রয়েছে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লি জুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে প্রশাসন।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীতে প্রায় ২৩,০০০ কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর জওয়ান (CAPF) মোতায়েন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যে ৮ থেকে ১২ অক্টোবরের জন্য ২২১টি CAPF কোম্পানি মোতায়েনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর বাইরে দিল্লি পুলিশকে সহায়তা জোগাতে আরও ১১০টি কোম্পানি নিয়োজিত রাখা হয়েছে। এই সমন্বিত বাহিনীতে রয়েছে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) ৮৫টি কোম্পানি, সশস্ত্র সীমা বলের (SSB) ১০টি কোম্পানি, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (ITBP) সাতটি কোম্পানি, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (RAF) সাতটি কোম্পানি এবং সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (CISF) একটি কোম্পানি। CAPF-এর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের নিজস্ব ২০,০০০ কর্মীও রাজপথে মোতায়েন থাকবেন।


প্রশাসনের এই প্রস্তুতি অতীতের যেকোনো বড় জমায়েতের চেয়েও বহুগুণ বেশি। গত জুলাই মাসে যন্তর মন্তরে CJP-র সমাবেশের সময় প্রায় ১৫০টি CAPF কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছিল। এমনকি ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের সময়ও সংখ্যাটি ছিল ৯৩ কোম্পানি। ফলে এইবারের প্রস্তুতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।


দিল্লির প্রবেশদ্বার ও সীমান্ত এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে বহু-স্তরের ব্যারিকেড বা নিরাপত্তা বেষ্টনী বসানো হচ্ছে। সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার সাহায্যে সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে ‘ফেস রিকগনিশন সিস্টেম’ (মুখ শনাক্তকারী প্রযুক্তি) যুক্ত ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির মেট্রো স্টেশন ও বাজারগুলো সাময়িক বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতেও বিশেষ তল্লাশি চালানো হচ্ছে।


আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (BNSS 163) অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকায় কোনো ধরনের অনুমোদনহীন জমায়েত বা বিক্ষোভ বরদাস্ত করা হবে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো রাখতে উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানার মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলোকেও সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।


CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস বুধবার জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লি পুলিশকে কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করবে এবং যানবাহন চলাচল ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর সাম্প্রতিক বিক্ষোভ—যেখানে রাহুল গান্ধীসহ শীর্ষ নেতাদের সাময়িক আটক করা হয়েছিল—তার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন কর্মসূচির ডাক এল। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিরোধী সাংসদরা আজ বৈঠকে বসছেন এবং পরবর্তীতে রাজঘাট অভিমুখে পদযাত্রারও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

Pages