বিবিপি নিউজ,নিজস্ব সংবাদদাতা: আর মাত্র এগারো দিন বাকি। তারপরই ৩৬৪ দিনের অপেক্ষার প্রহর গোনা শেষ হবে। বাংলা ও বাঙালি আনন্দের সাগরে অবগাহন করবে আগমনীর সুরে মাতোয়ারা হয়ে। দীর্ঘ সাত মাস বাংলার মানুষ অতি মারিতে জর্জরিত হয়ে, হয়ে গিয়েছিল এক ঘরে। এই দীর্ঘ সাত মাসে বাংলার 'বারো মাসে তেরো পার্বণ' এর সংস্কৃতিতে পড়েছিল ছেদ। চড়ক উৎসব থেকে শুরু করে গণেশ চতুর্থী উৎসব সবেতেই ছিল যেন,'না ছুঁই পানি' মানসিকতা।এরই মধ্যে অতিবাহিত হয়েছে একের পর এক দিন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে মানুষ বেশ কিছুটা করোনাকে সঙ্গী করে দিন গুজরান করতেও শিখেছে এবং সর্বোপরি এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষজন বিশেষতঃ বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা উৎসবকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন পুজোর কেনাকাটার জন্য ভিড় জমিয়েছে ফুটপাত থেকে শপিং মলে। আর সেই ভিড় দেখে আতঙ্ক গ্রস্থ হয়েছে করোনা বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ডাক্তারেরা।
যদিও এরই মধ্যে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মতামত প্রায় একই রকম। হাতিবাগানের এক ক্রেতার বক্তব্য, 'আর কতদিন ঘরে বসে থাকবো।সামনেই পুজো, পকেটে পয়সা না থাকলেও বাড়ির বাচ্চাদের একটা আনন্দ থেকেই থাকে। তাই তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে যৎসামান্য কেনাকাটা করতেই হয়। আর করোনা আতঙ্ক বলছেন? সেই নিয়ে তো আর বাড়িতে বসে থাকলে চলবে না।অফিসে বের হতে হবে। তবেই না মাসের শেষে দুটো পয়সা হাতে পাবো। না হলে তো খেতে না পেয়ে সংসার নিয়ে পথে বসতে হবে।'অন্যদিকে বড় বাজারের এক বিক্রেতা, তিনি অবশ্য সরকারের ওপরই বিদ্বেষগার করে বললেন, 'সবকিছুই যখন খুলে গেছে তখনো ট্রেনটা চালাতেই বাকি কেন? ট্রেনটা চললে অন্তত আমাদের ব্যবসার জিনিসপত্র পরিবহন করতে সুবিধা হয়। ট্রান্সপোর্টের খরচাটা কিছুটা হলেও অন্তত কমে।'
কিন্তু প্রশ্নটা হল অন্য জায়গায়। করোনা এখনো স্বমহিমায় বিরাজিত। এখনো পাল্লা দিয়ে মৃতের সংখ্যা ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এছাড়া বিশেষজ্ঞরাও অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত। যদিও তাঁরা বলছেন, রাস্তাঘাটে বাজারে শপিং মলে সর্বত্রই দূরত্ব বিধি ও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঘুরে বেড়ানো তা কিন্তু জনসাধারণের উচিত হচ্ছে না।এর পরিণতি কিন্তু আরো ভয়ঙ্কর হতে পারে। উৎসবের মরসুম শেষে করোনার দাপট আরো বাড়বে বলেই মনে করছেন। অন্যদিকে সরকার এই উৎসবকে লাগামছাড়া অনুমতি দিয়ে দিয়েছে।তাহলে কি সরকারের এই উদার মানসিকতাই করোনা আক্রান্তের দিকে কিছুটা হলেও ঠেলে দেবে।তাই সেখানেও থাকছে একটা বড়সড় প্রশ্ন।
