সব-ই তো হল, পুজোয় ‘করোনাশ্রী’ পুরস্কার পাবেন কে? প্রশ্ন তুলছেন চিকিৎসকেরা - BBP NEWS

Breaking

রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১

সব-ই তো হল, পুজোয় ‘করোনাশ্রী’ পুরস্কার পাবেন কে? প্রশ্ন তুলছেন চিকিৎসকেরা



বিবিপি নিউজ: বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। সেই পুজোতে মহামারী করোনা ভাইরাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঠাকুর দেখার ঢল নেমেছে মন্ডপে মন্ডপে। থোড়াই কেয়ার ভাইরাসের। যা হয় দেখা যাবে। কিন্তু এই ঠাসাঠাসি ভিড়েই যে পোয়াবারো করোনার।এক ধাক্কাতেই উঠতে পারে আক্রান্তের গ্রাফ। পুজোতে কমেছিল টেষ্টের সংখ্যা। ফলে আক্রান্তের সংখ্যাও কমেছিল। কিন্তু পুজো শেষ হতেই ভাইরাসের আসল রূপ দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কায় চিকিৎসকেরা। আর কটাক্ষ করে চিকিৎসকের বলছেন এবার পুজোয় "করোনাশ্রী" পাবে কারা?



কারন পুজোতে কেউ পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ মণ্ডপের শিরোপা, কেউ বা সেরা প্রতিমার সম্মান। পুজোর মণ্ডপের সামনে স্টেজে সাজানো পুরস্কারের পাশাপাশি কে কাকে কোন বিভাগে টেক্কা দিয়েছেন, তা পোস্ট হতে শুরু করেছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। কিন্তু অতিমারির তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় মণ্ডপের সামনে ভিড় টেনে কে কত করোনা ছড়ালেন, তার বিচার কে করবে? সেখানেও শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন শহরের চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের কথায়, “কোন মণ্ডপে কত মানুষের মাথা জড়ো হল, তার হিসাব-নিকেশ তো অনেক হল। এ বার কোন হাসপাতালে কত রোগী যাচ্ছেন, কত জন শয্যা না পেয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তার হিসেবটা করা প্রয়োজন। আর সেই ঘটনার নেপথ্যে কার ভূমিকা শ্রেষ্ঠ, তারও পুরস্কার হওয়া উচিত।”

রাজ্য সরকার ও কলকাতা হাই কোর্ট কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছিল, কিন্তু পুজোয় প্যান্ডেল ঘোরার আনন্দে মত্ত জনতার ধাক্কায় সব কিছুই জলাঞ্জলি গিয়েছে। 


প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসন-পুলিশ কী করছিল? তারা কেন কড়া মনোভাব নিলেন না? আবার এটাও ঠিক যে, প্রতিটি পাড়ার ছোটখাটো পুজোর মণ্ডপের সামনে ভিড় ছিল না। বরং কোথাও কোথাও একটা সময়ের পরে সেখানে এক জনেরও দেখা মিলত না। বদলে নামীদামি নেতাদের আয়োজিত পুজোর মণ্ডপের সামনেই ভিড় ছিল সর্বত্র। আর সেখানে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের কতটা কড়া মনোভাব দেখানো সম্ভব, তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকদের একাংশও। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, মুখে বাঁশি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন পুলিশ কর্মীরা। ভিড় কোথাও থমকে গেলেই বেজে উঠছে বাঁশি। শহরের এক সংক্রমণ বিশেষজ্ঞের কথায়, “ওই বাঁশি আদতে করোনার বিপদঘণ্টার প্রতীক। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ সেটা বুঝলেন না। তাই দ্রুত মাস্ক পরার বদলে, কে কত তাড়াতাড়ি পিছনে মণ্ডপকে রেখে নিজস্বী তুলবেন, তাতেই ব্যস্ত হয়েছেন।” আর নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের একাংশ এটাও বলছেন, দর্শনার্থীকে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে না দেওয়াই তাঁদের কাজ ছিল। অকারণে ভিড়ের মধ্যে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হতে তাঁরা নারাজ। 


Pages