৫১ বছর বয়সে বিরল চক্ষু রোগে আক্রান্ত রোগী দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিল ডা. আগরওয়ালস আই হসপিটালের চিকিৎসকেরা - BBP NEWS

Breaking

সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

৫১ বছর বয়সে বিরল চক্ষু রোগে আক্রান্ত রোগী দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিল ডা. আগরওয়ালস আই হসপিটালের চিকিৎসকেরা

 



বিবিপি নিউজ: জন্মগত বিরল চোখের রোগের সমস্যা ছিল। আইরিস কোলোবোমা (কনজেনিটাল আইরিস কোলোবোমা)-এর কারণে শৈশব থেকেই বাঁ-চোখে দুর্বল দৃষ্টিশক্তি নিয়ে জীবন কাটাচ্ছিলেন 51 বছর বয়সি এক রোগী। ডা. আগরওয়ালস আই হসপিটাল (কলকাতা)-এ  চিকিৎসার পরে পুনরায় দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন রোগী।


চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আইরিস কোলোবোমা একটি বিরল জন্মগত ত্রুটি, যেখানে চোখের আইরিসের একটি অংশ সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারে না। চিকিৎসার অংশ হিসেবে রোগীর উপর সিঙ্গল-পাস ফোর-থ্রো (এসএফটি) পিউপিলোপ্লাস্টি করেন ডা. আগরওয়ালস আই হসপিটালের চেয়ারম্যান প্রফেসর অমর আগরওয়াল। এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অস্বাভাবিক পিউপিলের গঠন সংশোধন করা সম্ভব, একইসঙ্গে দৃষ্টিশক্তি ও দেখার গুণমান—উভয়েরই উন্নতি ঘটানো সম্ভব হয়। চিকিৎসার পরে রোগীর বাঁ-চোখের দৃষ্টিশক্তি 40%-এরও কম থেকে বেড়ে 75%-এ পৌঁছেছে।



চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জন্মগত আইরিস কোলোবোমা, জোনিউলসের দুর্বলতা, রেটিনার জটিলতা এবং অ্যাম্ব্লাইওপিয়া—এই সবকিছুর সমন্বয়ে অস্ত্রোপচারটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে । পর্যাপ্ত জোনিউলার সাপোর্ট না থাকায় ছানি অপসারণের পর ইন্ট্রাঅকুলার লেন্স (আইওএল) প্রতিস্থাপন করাও ছিল প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন বিষয়। কারণ, স্থিতিশীল সাপোর্টের অভাবে অ্যাফাকিয়া হওয়ার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি ছিল, অর্থাৎ এমন একটি অবস্থা যেখানে চোখে স্বাভাবিক বা কৃত্রিম—কোনও লেন্সই থাকে না। এর ফলে অস্ত্রোপচারের জটিলতা আরও বেড়ে যায়। এছাড়া, কলকাতায় এসএফটি পিউপিলোপ্লাস্টি করার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চক্ষু শল্যচিকিৎসকের সংখ্যাও খুবই সীমিত ছিল। ফলে কোনও হাসপাতালই রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে রাজি হয়নি। তবে ডা. সমর সেনগুপ্ত, স্পেশালিস্ট অপথ্যালমোলজিস্টের নেতৃত্বাধীন সার্জিক্যাল টিম সফলভাবে এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে রোগীর বাঁ-চোখে কার্যকর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। একইসঙ্গে দলটি স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাকোইমালসিফিকেশন পদ্ধতিতে ছানির অস্ত্রোপচারও করে। যেহেতু দুর্বল জোনিউলসের কারণে রোগীর ক্যাপসুলার ব্যাগ স্থিতিশীল ছিল না, তাই সেখানে একটি ক্যাপসুলার টেনশন রিং (সিটিআর) প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি একটি নমনীয় ডিভাইস, যা ক্যাপসুলার ব্যাগকে স্থিতিশীল রাখে এবং নিরাপদভাবে ইন্ট্রাঅকুলার লেন্স (আইওএল) প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট প্রদান করে।


এই বিষয়ে ডা. সমর সেনগুপ্ত বলেন, “রোগী প্রথমে তাঁর ডান চোখের ছানির অস্ত্রোপচারের জন্য আমাদের কাছে আসেন। অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরে তিনি তাঁর অত্যধিক জটিল বাঁ-চোখের চিকিৎসা করানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি বিশ্বাস করতেন যে, তাঁর বাঁ-চোখের দৃষ্টিশক্তি আর কখনও ফিরবে না, কারণ অন্যত্র তাঁকে জানানো হয়েছিল যে অস্ত্রোপচার হয় সম্ভব নয়, নয়তো করলেও দৃষ্টিশক্তির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে না। বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে আমরা তাঁর চোখে থাকা একাধিক জটিলতা বিবেচনা করে একটি কাস্টমাইজড অস্ত্রোপচার পরিকল্পনা তৈরি করি। বর্তমানে তিনি তাঁর বাঁ-চোখে কার্যকর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন, দৈনন্দিন কাজকর্ম স্বাধীনভাবে করতে পারছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে এসেছেন। এমন জটিল ক্ষেত্রে রোগীদের দৃষ্টিশক্তি ও আত্মবিশ্বাস—উভয়ই ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়টি আমাদের গোটা টিমের কাছেই অত্যন্ত সন্তোষজনক।” চক্ষু পরিষেবায় উৎকর্ষের 10 বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করছে ডা. আগরওয়ালস আই হসপিটাল, কলকাতা। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে বহু জটিল ও চ্যালেঞ্জিং রোগীর সফল চিকিৎসা করেছে। এই মাইলফলক উদ্‌যাপনে উপস্থিত ছিলেন পদ্মশ্রী ঊষা উত্থুপ, যিনি অনুষ্ঠানের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।


Pages